জার্মানিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও খণ্ডকালীন কাজ
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে খণ্ডকালীন কাজের নানা সুযোগ। কোলন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সে, ইউনিভার্সিটি অব কোলন এবং বন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:১৭· ১ মিনিট পড়া

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকের স্কলারশিপ বা বৃত্তি থাকে এবং যারা বৃত্তি ছাড়া যান তাদের জন্য রয়েছে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ। দেশটিতে পড়াশোনার পাশাপাশি আইটি, প্রকৌশল, সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র উন্মুক্ত রয়েছে। কোলন ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সে, ইউনিভার্সিটি অব কোলন এবং বন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা এই বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
জার্মানিতে নিয়মানুযায়ী শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার চলাকালীন প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। এছাড়া ছুটি বা সেমিস্টারের বিরতির সময় তারা সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা এবং সব মিলিয়ে মাসে ১৬০ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি পান। এই খণ্ডকালীন কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের খরচ মেটানোর সুযোগ পান।
আইটি খাতে কাজের সুযোগ নিয়ে কোলন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সে বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রিসাদুল ইসলাম হিমেল জানান, আইটি ফিল্ডে প্রচুর সুযোগ রয়েছে কাজ করার জন্য কিন্তু একটু খুঁজে নিতে হয়। অন্যদিকে প্রকৌশল বিদ্যায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শাবনাজ খানম বলেন, প্রকৌশল বিদ্যায় অধ্যয়নরতদের খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ সবসময়ই ছিলো৷ কিন্তু সুযোগ যেমন বেশি তার সবেচেয়ে বড় শর্ত হচ্ছে জার্মান ভাষা জানা৷
সামাজিক বিজ্ঞান এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাজের পরিধি নিয়ে ইসরাত শামীম স্বাক্ষর বলেন, সামাজিক বিজ্ঞান এবং মানবিক এর শিক্ষার্থীদের কাজের ক্ষেত্র অনেক বড়৷ আমরা ইন্টারডিসিপ্লিনারি যে কোন বিষয়েই কাজ করতে পারি৷ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জার্মান ভাষায় বি২ লেভেল পর্যন্ত জানা থাকলে তা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।
ব্যবসায় প্রশাসন ও তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয় নিয়ে শামিমা আক্তার জানান, বর্তমান সময়ে ড্যাটা ব্যবহার এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাথে ব্যবসায় প্রশাসনের সমন্বয় হওয়ায় জার্মানিতে অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এখন খণ্ডকালীন অথবা পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ অনেক বেশি৷ এছাড়া কাজের নমনীয়তা প্রসঙ্গে মাশ-হুদা রহমান শিপ্রা বলেন, আমার হয়তো মাসে একদিন বা দুইদিন অফিসে যেতে অথবা কোন বিশেষ মিটিং থাকলে যেতে হয়৷ এছাড়া আমরা আমাদের সুবিধাজনক সময়ে হোম অফিস করতে পারি।
অতিমারি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিতে শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য জার্মান সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জার্মান সরকার স্বল্প সুদে ছাত্র-ছাত্রীদের ঋণ এবং এককালীন প্রণোদনা প্রদান করেছে, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে বড় ধরনের সহায়তা জুগিয়েছে।








