নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন ও সংকট নিয়ে আলোচনা
দেশে নতুন করে ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক অনুমোদন পেলেও শিক্ষা খাত ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ঢাকা, বাংলাদেশ — ২০২৬ সালের ৩ মার্চ প্রস্তাবিত নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন এবং শিক্ষার্থী সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনা কেন্দ্র করে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, নতুন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৭টি। এর পাশাপাশি নতুন করে আরও ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ১১টি প্রস্তাবের মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে সাময়িক অনুমোদন লাভ করেছে এবং বাকি ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সাময়িক অনুমোদন পাওয়া নতুন প্রতিষ্ঠানটি হলো ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থিত ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইইউএসটি)। প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের আগস্ট মাসে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক সরকারি অনুমোদন লাভ করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা হিসেবে ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর নাম রয়েছে। এছাড়া এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে ড. মো. আলী আফজাল, সৈয়দ জাবেদ মো. সালেহ উদ্দিন, আনোয়ারুল ইসলাম, এম হারুনুর রশীদ, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং ড. শোয়াইব জিবরান সংশ্লিষ্ট রয়েছেন।
নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুমতির মেয়াদ সাত বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় যমুনা গ্রুপ ও কৃষিবিদ গ্রুপ এবং জাতীয় সংসদের বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক আলোচনার পরিধিতে এসেছে।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও শিক্ষার্থী সংকট নিয়ে বিশদ পর্যালোচনায় অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেছেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, “পাবলিক বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকট হবে দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের কাঠামোগত বৈষম্য ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকার চ্যালেঞ্জের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে ইতিমধ্যে ১১৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেলে শিক্ষার্থী আকর্ষণের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। এর ফলে যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বা অবকাঠামো দুর্বল, তারা মারাত্মক শিক্ষার্থী সংকটে পড়তে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি এই পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।








