ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি
অনুমোদনহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষকেরা। আগামীতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সাধারণ শিক্ষক ফেডারেশনের ব্যানারে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সাধারণ শিক্ষক ফেডারেশনের নেতারা বলেন, দীর্ঘকাল ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ দেশের প্রাথমিক শিক্ষার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এই মাদ্রাসাগুলো। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের জীবিকা নির্বাহ ও প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষার্থে অবিলম্বে জাতীয়করণের কোনো বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ইবতেদায়ী মাদ্রাসার দীর্ঘ ইতিহাস ও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, সুদূর ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো নিবন্ধন লাভ করে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পাঠদান করা হয়ে থাকে।
মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর হলেও এর সাথে জড়িত শিক্ষকদের ভাগ্য বছরের পর বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন নেতারা। তারা জানান, ১৯৯৪ সালে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য ৫০০ টাকা ভাতা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, সে সময় প্রায় ১৮ হাজার মাদ্রাসার মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৫১৯টি প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় আসতে পেরেছিল। বাকি হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিলেন।
বৈষম্যের প্রকট উদাহরণ টানতে গিয়ে নেতারা ২০১৩ সালের একটি বড় ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ওই বছর ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও, সমকক্ষ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। এই দীর্ঘ বৈষম্যের অবসান ঘটাতে শিক্ষকেরা বিভিন্ন সময় সরকারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন।
দাবি আদায়ের ধারাবাহিকতায় বিগত ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট আন্দোলনরত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত কোনো সাড়া না পাওয়ায় শিক্ষকেরা কঠোর কর্মসূচির পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সাধারণ শিক্ষক ফেডারেশনের নেতারা তাদের চূড়ান্ত কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজধানী ঢাকায় লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।








