ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের সান্ধ্য আইন বাতিল ও সমান হলের দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সান্ধ্য আইন বাতিল এবং সব হলে সমান প্রবেশাধিকারের দাবিতে আন্দোলন চলছে। 'অবরোধবাসিনী', 'বৈষম্যহীন নারী হল চাই' ও 'নারী হল সংস্কার আন্দোলন'-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা এক মাস ধরে এই কর্মসূচি পালন করছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বলবৎ থাকা সান্ধ্য আইন বাতিল এবং আবাসিক হলগুলোতে সমান সুযোগ ও প্রবেশাধিকারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। 'অবরোধবাসিনী', 'বৈষম্যহীন নারী হল চাই' এবং 'নারী হল সংস্কার আন্দোলন' নামক প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যানারে এই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। বিগত এক মাস ধরে চলা এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচটি নারী হলের সঙ্গে চৌদ্দটি পুরুষ হলের বৈষম্য দূর করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি নারী হলে সান্ধ্য আইন চালু রয়েছে যেখানে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ছাত্রীদের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি চৌদ্দটি পুরুষ হলে এ ধরনের কোনো সময়ভিত্তিকRestrictions বা বিধিনিষেধ নেই। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছেন। এর অংশ হিসেবে গত ২৭ জুলাই উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন তারা। পরবর্তীতে ৩ আগস্ট মধুর ক্যেন্টিনে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া গত ১০ আগস্ট সংহতি সমাবেশ ও ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে গভীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কষ্টের কথা। নুসাইবা আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, 'প্রথম দিন থেকেই বুঝেছি, এখানে ছেলেরা শিক্ষার্থী আর মেয়েরা 'নারী শিক্ষার্থী'। বাড়ি ২০ কিলোমিটার দূরে, অনেক চেষ্টাতেও সিট মেলেনি, অথচ পরিচয়পত্রে সংযুক্ত হলের নাম লেখা। সহপাঠ্যক্রমিক কাজ শেষে রাত হয়ে গেলে থাকার জায়গা জোগাড় করতে হয় অনুনয়-বিনয় করে–নয়তো ১১টা-১২টায় একা ফেরার ঝুঁকি।'
আরেক শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ আছিয়া আক্তার রেমিজা প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রশাসনের নিরাপত্তা দিতে না পারার দায় নারী শিক্ষার্থীরা কেন নিজেদের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে শোধ করবেন? তার মতে, প্রশাসনের ব্যর্থতার খেসারত দিতে গিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে সার্বিক বিষয়ে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, 'আমাদের ডাকসুর ২৮ জনের পুরো বডি থেকে আসলে এ বিষয়টা শক্তিশালীভাবে উত্থাপিত হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকটা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ডাকসু থেকে একটা স্মারকলিপি দেওয়া হয় ভিসি স্যারের কাছে। ব্যক্তিগতভাবে এই ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যাপারে আমার একটা মতামত আছে। তবে ডাকসুর থেকে বিবৃতি আসেনি। আমি এই সান্ধ্য আইনটা বাতিলের ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছি।'
শিক্ষার্থীদের এই তীব্র প্রতিবাদের মুখে গত ১৭ আগস্ট প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি সময়সীমা আর এক ঘণ্টা বাড়ানোর সুপারিশ করে। তবে আন্দোলনরত ছাত্রীরা প্রশাসনের এই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাদের মূল দাবি অর্থাৎ সান্ধ্য আইন সম্পূর্ণ বাতিল এবং চব্বিশ ঘণ্টার নিরাপদ প্রবেশাধিকারের দাবিতে অনড় থাকেন।








