হিমালয়ে হিমবাহ গলন ও নতুন হ্রদ নিয়ে চরম ঝুঁকি ও গবেষণা
হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও হ্রদ পরিবর্তনের ফলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারত ও নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় নতুন জলাধার সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি গবেষণায় উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও হ্রদের পরিবর্তনের কারণে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এবং ভারতের হিমালয় অঞ্চলের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনগুলো পাহাড়ি জনপদ ও নদী অববাহিকার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি বড় ধরনের প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটে। সেখানে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের একটি বিশাল স্তর নিচে নেমে আসে এবং ভোতে কোশি নদী ব্যবস্থায় তীব্র আঘাত হানে। এই আকস্মিক ঘটনার ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং আশপাশের এলাকায় মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার প্রভাবে বেত্রাবতী এলাকায় স্যাটেলাইটের ছবিতে ধ্বংসাত্মক চিত্র ধরা পড়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে যে, ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক এলাকার কিছু অংশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে স্থানীয় জনজীবন ও অবকাঠামো চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। আইআইটি মান্ডির অধ্যাপক ডেরিকস প্রেইজ শুক্লার নেতৃত্বে হিমাচল প্রদেশের প্রায় দুই হাজার হ্রদ নিয়ে একটি বিস্তারিত গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক দশক ধরে এই হ্রদগুলোর বর্তমান অবস্থা ও পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গবেষণায় হিমাচল প্রদেশে প্রায় নয়টি হ্রদকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই হ্রদগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা এবং চারপাশের ভৌগোলিক অবস্থা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে যাওয়ার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এদিকে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও নতুন জলাধার ও হিমবাহের হ্রদ বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৭ আগস্টের স্যাটেলাইট ছবিতে লেন্দে খোলা এলাকায় প্রায় ২০ দশমিক ২৫ হেক্টর আয়তনের একটি নতুন জলাধার শনাক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। নতুন এই জলাধারের সৃষ্টি নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি করছে।
অন্যদিকে অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং জেলার মাগো চু অববাহিকাতেও একই ধরনের ঝুঁকি লক্ষ্য করা গেছে। ওই অঞ্চলের সম্ভাব্য বিপজ্জনক পাঁচটি হিমবাহের হ্রদের মধ্যে চারটির আয়তন ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হিমবাহের এই দ্রুত পরিবর্তন এবং নতুন হ্রদের সৃষ্টি ভারতের হিমাচল প্রদেশ, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের জন্য বড় ধরনের প্রাকৃতিক সতর্কবার্তা বয়ে আনছে।








