মূল কনটেন্টে যান
ব্রেকিং
বিডিরিভাইস২৪-এ স্বাগতম — দেশের খবর, নির্ভরযোগ্য উৎসে
BDRevise24 — দেশের খবর, নির্ভরযোগ্য উৎসে

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — HEADER

গাইবান্ধায় জলাবদ্ধতায় আমন চাষ অনিশ্চিত, বিপাকে পাঁচ শতাধিক কৃষক

গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে আমন চাষাবাদ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রায় দুই কিলোমিটার নালা না থাকায় এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় এই অঞ্চলের পাঁচ শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা পোস্ট-এর তথ্যানুযاي এই চিত্র উঠে এসেছে।

বিডিরিভাইস২৪ ডেস্ক

প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১২ · ১ মিনিট পড়া

গাইবান্ধায় জলাবদ্ধতায় আমন চাষ অনিশ্চিত, বিপাকে পাঁচ শতাধিক কৃষক

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — ARTICLE_TOP

১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ও রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর, ভেলাকোপা এবং পাকড়িছিড়া এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে আমন চাষাবাদ মারাত্মভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ওই এলাকার কৃষকরা জানান, প্রায় দুই কিলোমিটার খাল বা নালা না থাকায় এবং পানি নিষ্কাশনের সমস্ত পথ বন্ধ থাকায় এই এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দুই ইউনিয়নের অন্তত পাঁচ শতাধিক কৃষক মারাত্মক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় হলো আমনের চারা রোপণের উৎকৃষ্ট সময়। স্থানীয় কৃষক আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম জানান, কেবল জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই বীজতলা নষ্ট হয় এবং কৃষকদের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক সময় কৃষকদের একাধিকবার চারা রোপণ করতে হয়, যার ফলে চাষাবাদে উৎপাদন খরচও অনেক বেড়ে যায়। তিনি আরও জানান, নালা না থাকায় এই এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী তিনটি ইউনিয়নের অন্তত সহস্রাধিক বিঘা জমির কয়েকশ কৃষক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলম মিয়া জানান, গত বছর আমন মৌসুমেও তিনি চারা কিনে দুই দফা রোপণ করেও এক কেজি ধানও পাননি এবং তার পুরো ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আরেক কৃষক শাহিন মিয়া বলেন, বর্তমানে জমিতে প্রচুর পানি জমে আছে এবং এর ফলে বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি হাটে খোঁজ নিয়ে দেখেছেন চারার অনেক চড়া দাম, যার কারণে তিনি বুঝতে পারছেন না কীভাবে জমি রোপণ করবেন। কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, প্রতিবছর দোগোচি বা বলান দিতে তাদের অনেক বেশি খরচ হয়। অনেক সময় দুই দফা রোপণ করেও ধান পাওয়া যায় না কারণ সব পানি তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মাবুদ সরকার জানান, এলাকার দুই পাশেই নালা রয়েছে এবং কেবল মাঝে প্রায় দুই কিলোমিটার নালা খনন করা সম্ভব হলেই এখানে আমন, ইরি ও বর্ষালীসহ তিন ফসলি চাষাবাদ করা সফলভাবে সম্ভব হবে। আরেক কৃষক মধু মিয়া জানান, ওই অংশে খাল খননের জন্য তারা গত বছরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দরখাস্ত ও স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। এসকেএস ফাউন্ডেশন ও গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি উম্মে কুলসুম জানান, ওই এলাকার কৃষকদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে খাল খনন করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন যে কেবল জলাবদ্ধতার কারণেই সম্ভাবনাময় তিন ফসলি আউশ ধান উৎপাদন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন ওই এলাকার কৃষকরা।

উম্মে কুলসুম আরও জানান, ১৫ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট হলো আমনের রোপণের উৎকৃষ্ট সময় এবং দেশি জাতের ধান আগামী আরও ১৫ দিন পর্যন্ত রোপণ করা যেতে পারে। তবে এরপরে রোপণ করলে আর ভালো ফলন পাওয়া যাবে না। এদিকে গাইবান্ধা জেলায় চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে ইতোমধ্যে ৩৩ দশমিক ৫ হেক্টর আমনের বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম সাবু জানান, কৃষকদের এই ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে নালা খননের বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। একই সঙ্গে তিনি সদর আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে নতুন কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান যে তিনি এখানে নতুন এসেছেন এবং কৃষকরাই যেহেতু এই দেশের প্রাণ, তাই তিনি সব খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত খাল খননে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — IN_ARTICLE

আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য

মডারেশনের পর প্রকাশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

সব দেখুন
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি ব্রেকিং
বাংলাদেশ

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি

সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অর্থ বিভাগ শনিবার ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

১ মিনিট পড়া
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ
বাংলাদেশ

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ

নদীতে প্রবল স্রোত ও নাব্য সংকটের কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্তের ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ফেরি ভিড়তে না পারায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

১ মিনিট পড়া
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতির কড়া নির্দেশ
বাংলাদেশ

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতির কড়া নির্দেশ

রাজবাড়ীর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের যথাসময়ে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। নিয়ম না মানলে শোকজ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — FOOTER