ময়মনসিংহের সন্তোষপুর বনাঞ্চলে ইকোপার্ক ঘোষণায় উচ্ছেদ আতঙ্ক
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সন্তোষপুর বনাঞ্চলে ইকোপার্ক ঘোষণার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ৩ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এই ইকোপার্ক ঘোষণা করা হয়। তবে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকার সংরক্ষণ করেই উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সন্তোষপুর বনাঞ্চলে ইকোপার্ক ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত ৩ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সন্তোষপুর মৌজার বনভূমিকে ইকোপার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণায় ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের দুশ্চিন্তা ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফুলবাড়িয়ার নাওগাঁও ইউনিয়নের সন্তোষপুর, কৃষ্ণপুর ও রাঙ্গামাটিয়া—এই তিন মৌজায় মোট বনভূমির পরিমাণ ৩ হাজার ৬৫৯ দশমিক ১৪ একর। একসময়ের প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর আয়তনের এই শাল-গজারির বনে বর্তমানে প্রাকৃতিক শালবন টিকে আছে মাত্র ৫০ একর। এছাড়া ইকোপার্ক ঘোষিত বনভূমির পরিমাণ ৫৬৫ একর। বনাঞ্চলের অন্য ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে রাবারবাগানের জন্য বরাদ্দ জমি ১ হাজার ৩৬১ একর, বাস্তবে রাবারবাগান প্রায় ৭০০ একর, সুফল প্রকল্পের আওতায় বাগান প্রায় ৭০০ একর, আগরবাগান প্রায় ৪০ একর, একসময়ের জবরদখলকৃত বনভূমি ১৫০ একর এবং গত দুই বছরে দখলমুক্ত করা জমি ১১২ একর।
সন্তোষপুর বনাঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমে প্রায় দেড় হাজার মানুষ অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুলেমান মিয়া তাঁর উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, '৪০ বছর মেয়াদে সরকার আমাদের অংশীদার করেছে। গাছ দেখাশোনার পাশাপাশি বনে চাষাবাদ করে সংসার চালাই। ইকোপার্কের হলে এই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় কি–না দুশ্চিন্তায় আছি।' এই বনাঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্বও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কৃষিপণ্য থেকে বাৎসরিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।
এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও ইতিহাসের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা গৌরাঙ্গ চন্দ্র বর্মণ অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'বুনো শূকর, শিয়াল, বানর, হনুমান দেখেছি। বাঘ থাকার কথাও শুনেছি। এখন কিছু শিয়াল আর বানর ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না।' অন্যদিকে, বনভূমি রক্ষা ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে গাছ কাটা ও বনভূমি দখলের অভিযোগে মোট ৪২টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে গত দুই বছরেই হয়েছে ৩৪টি মামলা।
স্থানীয় মানুষের উচ্ছেদ আতঙ্ক দূর করতে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, 'সামাজিক বনায়নে স্থানীয় মানুষকে অংশীদার করা হয়েছে। তাঁদেকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।' একই ধরনের আশ୍ওয়াস দিয়ে মো. কামরুল হাসান বলেন, 'স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়েই এবং তাঁদের অধিকার সংরক্ষণ করেই ইকোপার্ক বাস্তবায়ন করা হবে। তাঁদের ক্ষতি হবে—এমন প্রচার সঠিক নয়।'
সন্তোষপুর বনাঞ্চলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বন বিভাগ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় মোহাম্মদ এমদাদুল হক, নূর মোহাম্মদ, এম এ ফারুকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ যুক্ত রয়েছেন। বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখেই সরকার নির্ধারিত ইকোপার্ক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে।








