ফুলবাড়ীয়ার সন্তোষপুর শালবনকে ইকোপার্ক ঘোষণা: জীবিকা নিয়ে আশঙ্কা
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ার সন্তোষপুরের ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক শালবনের ৫৬৫ একর এলাকাকে ইকোপার্ক ঘোষণা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। বনের পরিধি সংকুচিত হয়ে আসায় এবং নতুন ঘোষণায় স্থানীয় দেড় হাজার পরিবার ও বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সন্তোষপুরের প্রাকৃতিক শালবনের বিস্তৃতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একসময় এই প্রাকৃতিক শালবনটি সাড়ে তিন হাজার একরের বেশিজুড়ে বিস্তৃত ছিল। সময়ের ব্যবধানে নানা কারণে সেই বিশাল বনাঞ্চল সংকুচিত হয়ে বর্তমানে মাত্র ৫০ একরে ঠেকেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের অধীনে এই বনাঞ্চলের ৫৬৫ একর এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইকোপার্ক’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
তবে এই ইকোপার্ক ঘোষণার ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনজীবিকা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বন বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন ও কৃষি বনায়ন কর্মসূচির সঙ্গে এই অঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার পরিবার সরাসরি যুক্ত রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
শুধু জীবিকাই নয়, এই বনাঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি বড় ধরনের স্থানীয় অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। জানা গেছে, এই বনাঞ্চলকে ঘিরে প্রতিবছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব তথ্য ও পরিসংখ্যান নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ঐতিহ্যবাহী এই শালবন রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবারগুলোর জীবিকা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম কীভাবে সুরক্ষিত হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।








