সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কে সাড়ে চার হাজার গাছ কাটা শুরু
সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের প্রায় ১৯ কিলোমিটার জুড়ে সাড়ে চার হাজার গাছ কাটা শুরু হয়েছে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা মানববন্ধন করেছেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে বন অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকায় সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। সড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীন হলেও বর্তমানে সেখানে গাছ কাটছে বন বিভাগ। প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাক জুড়ে এই গাছ কাটার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, ২০০৪ সালে এই এলাকায় প্রায় ২০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে এসে ৩ হাজার গাছ কাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই সড়কে মোট সাড়ে চার হাজার বা ৪,৪৬৮টি গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই গাছগুলোর আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
গাছ কাটার এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবাদকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মানিক মিয়া, আবুল হোসেন, রাজু আহমেদ, ওবায়দুল হক, রিয়াজ উদ্দিন, মতিউর রহমান খান, সাজেদুর রহমান এবং মোহাম্মদ আবদুর রহমানসহ অনেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
গাছ কাটার অভিজ্ঞতা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া একটি হতাশার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'জায়গাটুকু সরকারি, কিন্তু জামগাছটি আমি লাগিয়েছি। এলাকার শিক্ষার্থী ও পথচারীরা এই গাছের ছায়া পেতেন। জাম পাকার মৌসুমে সবাই গাছ থেকে জাম নিয়ে খেতেন। গাছটি কাটার সময় আশপাশের সবাই মিলে বাধা দিয়েছি। তবু তারা দুটি গাছ কেটে ফেলেছে।'
নির্বিচারে এই গাছ কাটার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদীরা একাট্টা হয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা মিলে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দ্রুত এই অপরিকল্পিত গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি গাছ কাটা বন্ধ করা না হয়, তবে তারা বন অফিস ঘেরাও করতে বাধ্য হবেন।
এদিকে গাছ কাটার এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং পরিবেশ সুরক্ষার দাবিতে স্থানীয় সচেতন মহলের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনও সক্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলন এবং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) নামের সংগঠনগুলোও এই বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।








