মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও রবিউল আউয়ালের তাৎপর্য
পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নতের অনুসরণ মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। অন্ধকার যুগ থেকে মানবজাতিকে আলোর পথ দেখাতে তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

পবিত্র রবিউল আউয়াল হলো আরবি হিজরি চান্দ্রবর্ষের তৃতীয় মাস। ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ এই মাসের নামের অর্থ হলো প্রথম বসন্ত। এই মাসে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরित শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মদিনা মুনাওয়ারা থেকেই ইসলামের আলো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর জীবনাদর্শ আজীবন সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় হয়ে রয়েছে।
নবী করিম (সা.)-এর পবিত্র আবির্ভাবের সময়কার যুগ ইতিহাসে ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ বা অন্ধকার যুগ নামে পরিচিত ছিল। সেই সময়ে সমাজে অন্যায়, অবিচার, অজ্ঞতা ও হানাহানি চরম আকার ধারণ করেছিল। ঠিক সেই ক্রান্তিলগ্নে মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর প্রিয় হাবিবকে এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুলের আগমন ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসুল এসেছেন। তোমাদের কষ্ট তাঁকে কষ্ট দেয়। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু।’
আল্লাহ তাআলার ওপর অটল বিশ্বাস এবং সৎকাজের গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আরও ঘোষণা করা হয়েছে, ‘যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে বিশ্বাস করে আর উহাই তাদের প্রতিপালক হতে প্রেরিত সত্য, তিনি তাদের মন্দ কর্মগুলো বিদূরিত করবেন এবং তাদের অবস্থা ভালো করবেন।’ এই আয়াতের মাধ্যমে মুমিন বান্দাদের জন্য ক্ষমা ও কল্যাণের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, যা নবীজির আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।
নবী করিম (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় উম্মতকে সবসময় পারস্পরিক ভালোবাসা, ক্ষমা এবং হিংসা-বিদ্বেষহীন সমাজ গঠনের তাগিদ দিয়েছেন। সাহাবি আনাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত একটি দিকনির্দেশনামূলক বাণীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘হে প্রিয় বৎস! যদি তোমার পক্ষে সম্ভব হয় তবে এভাবে রাতদিন অতিবাহিত করো যেন তোমার অন্তরে কারও প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ না থাকে।’ এই অমূল্য বাণীর মাধ্যমে তিনি অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা এবং সবার সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখার শিক্ষা দিয়েছেন।
সুন্নতের অনুসরণ ও ভালোবাসার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে মহানবী (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, ‘হে প্রিয় বৎস! এটাই আমার সুন্নত। যারা আমার সুন্নাতকে ভালোবাসে, তারা আমাকেই ভালোবাসে আর যারা আমাকে ভালোবাসে এবং তারা জান্নাতে আমার সঙ্গেই থাকবে।’ এই হাদিসটির মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, প্রিয়নবীর সুন্নতের ওপর চলা এবং তাঁর আদর্শ ধারণ করাই পরকালের মুক্তির একমাত্র পথ। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান মহানবী (সা.)-এর এই সুমহান আদর্শ প্রচার ও প্রসারে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমান জটিল ও হানাহানিময় বিশ্বে রবিউল আউয়াল মাসের শিক্ষা এবং মহানবী (সা.)-এর উদারতা, দয়া ও ক্ষমার নীতি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে একটি শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর সুন্নতের বিকল্প নেই। আসুন, পবিত্র এই মাসে মহানবীর সিরাত বা জীবনচরিত গভীরভাবে অধ্যয়ন করি এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে তা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে নিজেদের জীবন ধন্য করি।








