ইসলামে অতিথি আপ্যায়নের গুরুত্ব ও নানা আদব
ইসলাম ধর্মে অতিথি আপ্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এটি কেবল সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং ইমানের অংশ এবং ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

আতিথেয়তা ও অতিথি আপ্যায়ন মানবসভ্যতার সূচলকাল থেকেই একটি মহৎ গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আরব সমাজে ও জাহিলি যুগেও অতিথি আপ্যায়নের প্রচলন ছিল। পরবর্তী সময়ে মহানবী (সা.) অতিথি আপ্যায়নকে ইসলামের আদর্শের সঙ্গে সমৃদ্ধ করেছেন এবং এটি মুসলমানদের জন্য সুন্নত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইসলামে অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন কেবল সামাজিক সৌজন্যের বিষয় নয়, বরং এটি একটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
ইসলামের ইতিহাসে অতিথি আপ্যায়নের বহু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর অতিথি আপ্যায়নের ঘটনা কোরআন ও হাদিসে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে। আল্লাহ তাআলা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, এরপর তিনি অবিলম্বে আপ্যায়নের জন্য একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে এলেন। মহান নবীদের এই ঐতিহ্য ইসলামের যুগেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অনুসৃত হয়ে আসছে।
ওহী নাজিলের প্রাথমিক পর্যায়ে মহানবী (সা.) যখন নবুওয়ত লাভ করে কিছুটা শংকিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন, তখন তাঁর সহধর্মিণী হজরত খাদিজা (রা.) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে তাঁর মহৎ গুণাবলীর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। হজরত খাদিজা (রা.) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, আপনি তো আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করেন, অসহায় দুর্বলদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সাহায্য করেন, অতিথির সমাদর করেন এবং দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন।
অতিথি আপ্যায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে নবীজি (সা.) বিভিন্ন হাদিসে তাগিদ দিয়েছেন। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন অতিথির সমাদর করে। এই হাদিসের মাধ্যমে ইমানের সঙ্গে অতিথি আপ্যায়নের গভীর সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে, যা একজন মুমিনের জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অতিথির অধিকার আদায়ের বিষয়ে ইসলামে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হাদিসে আরও বলা হয়েছে যে রাতে আসা অতিথির আপ্যায়ন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর আবশ্যক। আর যদি তার কাছে অতিথি ভোর পর্যন্ত থাকেন, তবে সেই সময়ের আপ্যায়নও মেজবানের ওপর অতিথির পাওনাস্বরূপ। এসব বিধান থেকে স্পষ্ট হয় যে ইসলামে মেজবানের অতিথি সেবায় কোনো রকম শৈথিল্যের সুযোগ রাখা হয়নি।
পরিশেষে বলা যায়, অতিথি আপ্যায়ন মুসলিম সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। ইসলামের এই সুমহান আদর্শ ও হাদিসের শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয় এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে।








