মূল কনটেন্টে যান
ব্রেকিং
BDRevise24 — Trusted & Targeted News

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — HEADER

ওহুদের ময়দানে শহীদ হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)

ওহুদ যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে শহীদ হন হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)। অপবিত্র অবস্থায় গোসল না করেই রণক্ষেত্রে যোগ দেওয়ায় ফেরেশতারা তাকে গোসল করিয়েছিলেন বলে জানান মহানবী (সা.)। এই অলৌকিক ঘটনার কারণে তিনি 'গাসিলুল মালাইকা' বা ফেরেশতা কর্তৃক গোসলপ্রাপ্ত হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।

বিডিরিভাইস২৪ ডেস্ক

প্রকাশ: · মিনিট পড়া

ওহুদের ময়দানে শহীদ হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)
ছবি: প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — ARTICLE_TOP

ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওহুদ যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে গিয়ে শহীদ হন বিশিষ্ট সাহাবি হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)। ওহুদ প্রান্তরে সংঘটিত এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর অন্যতম বীর সেনানী হিসেবে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তার এই শাহাদাত এবং পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা ইসলামী ইতিহাসে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।

যুদ্ধ চলাকালীন ওহুদ প্রাঙ্গণে বীরের মতো লড়াই করে একপর্যায়ে শাহাদাতবরণ করেন হানজালা (রা.)। তার শাহাদাতের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এক বিশেষ ও অলৌকিক ঘটনার কথা সাহাবিদের সামনে প্রকাশ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান যে, তিনি নিজ চোখে দেখতে পেয়েছেন আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে ফেরেশতারা হানজালাকে গোসল করাচ্ছেন।

মহানবী (সা.) অলৌকিক এই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, 'আমি দেখতে পাচ্ছি, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানে রুপার পাত্রে রাখা মেঘের শীতল পানি দিয়ে ফেরেশতারা তোমাদের ভাই হানজালাকে গোসল করাচ্ছে!' প্রিয় নবীর এমন ঘোষণার পর সাহাবিদের মধ্যে এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের আগ্রহ তৈরি হয় এবং এর পেছনের প্রেক্ষাপট উন্মোচিত হয়।

এই অলৌকিক ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য মহানবী (সা.) সাহাবিদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'তোমরা হানজালার স্ত্রীর কাছে গিয়ে খবর নাও, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তার কী অবস্থা ছিল?' রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই নির্দেশ পাওয়ার পর সাহাবিরা হানজালার স্ত্রীর কাছে গিয়ে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন।

হানজালার স্ত্রী জামিলা বিনতে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই সাহাবিদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান যে, হানজালা নবীজির আহ্বান শুনে ফরজ গোসল করার সময়টুকুও নেননি; বরং অপবিত্র অবস্থাতেই রণক্ষেত্রে ছুটে গিয়েছিলেন। ওহুদ যুদ্ধের ডাক আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আর কোনো লৌকিকতার অপেক্ষা না করে সরাসরি যুদ্ধ ময়দানে চলে যান।

জামিলা বিনতে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কেন শহিদ হানজালা (রা.)-কে ফেরেশতারা এসে গোসল করিয়েছিলেন। তার এই ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বয়ং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাকে পবিত্র করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যা মুমিন হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে।

ওহুদের ময়দানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর থেকেই হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.) মুসলিম উম্মাহর কাছে 'গাসিলুল মালাইকা' বা ফেরেশতা কর্তৃক গোসলপ্রাপ্ত সাহাবি হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। তার এই আত্মত্যাগ এবং ফেরেশতাদের মাধ্যমে গোসলপ্রাপ্তির সম্মান ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — IN_ARTICLE

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

সব দেখুন
মালদ্বীপে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব
ধর্ম

মালদ্বীপে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব

মালদ্বীপের পর্যটনকেন্দ্রিক রিসোর্ট এলাকার বাইরে স্থানীয় দ্বীপগুলোতে ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গভীর প্রভাব রয়েছে। রাজধানী মালে শহরে ৩০টিরও বেশি মসজিদ রয়েছে এবং এখানে ১৬৫৮ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক হুকুরু মিস্কি অবস্থিত। ইউনেসকোর ঐতিহাসিক বিবরণে মালদ্বীপে ইসলাম গ্রহণের সময়কাল ১১৫৩ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১ মিনিট পড়া
পিতামাতার আর্থিক অসদাচরণ ও প্রতারণায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
ধর্ম

পিতামাতার আর্থিক অসদাচরণ ও প্রতারণায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামে পিতামাতার প্রতি সর্বোচ্চ সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তাদের অনৈতিক বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, সন্তানের সম্পদে অন্যায়ভাবে দেনা তৈরি করা সম্পূর্ণ হারাম।

১ মিনিট পড়া
তুরস্কের মারদিনে ইসলাম গ্রহণ করলেন শেভন নামের পর্যটক
ধর্ম

তুরস্কের মারদিনে ইসলাম গ্রহণ করলেন শেভন নামের পর্যটক

তুরস্কের মারদিন প্রদেশের আরতুকলু জেলা মুফতির কার্যালয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন শেভন নামের এক পর্যটক। ধর্ম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে আবদুল্লাহ রাখেন।

১ মিনিট পড়া
ইসলামে সময় ব্যবস্থাপনা, জীবনের মূল্য ও অর্থহীন কাজ বর্জনের গুরুত্ব
ধর্ম

ইসলামে সময় ব্যবস্থাপনা, জীবনের মূল্য ও অর্থহীন কাজ বর্জনের গুরুত্ব

ইসলামী জীবনদর্শন অনুযায়ী মানুষের জীবন ও সময় অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। সময় ব্যবস্থাপনা, দৈনন্দিন রুটিন সাজানো এবং অনর্থক কাজ পরিহার করার ওপর ইসলামে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — FOOTER