ওহুদের ময়দানে শহীদ হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)
ওহুদ যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে শহীদ হন হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)। অপবিত্র অবস্থায় গোসল না করেই রণক্ষেত্রে যোগ দেওয়ায় ফেরেশতারা তাকে গোসল করিয়েছিলেন বলে জানান মহানবী (সা.)। এই অলৌকিক ঘটনার কারণে তিনি 'গাসিলুল মালাইকা' বা ফেরেশতা কর্তৃক গোসলপ্রাপ্ত হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওহুদ যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে গিয়ে শহীদ হন বিশিষ্ট সাহাবি হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)। ওহুদ প্রান্তরে সংঘটিত এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর অন্যতম বীর সেনানী হিসেবে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তার এই শাহাদাত এবং পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা ইসলামী ইতিহাসে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।
যুদ্ধ চলাকালীন ওহুদ প্রাঙ্গণে বীরের মতো লড়াই করে একপর্যায়ে শাহাদাতবরণ করেন হানজালা (রা.)। তার শাহাদাতের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এক বিশেষ ও অলৌকিক ঘটনার কথা সাহাবিদের সামনে প্রকাশ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান যে, তিনি নিজ চোখে দেখতে পেয়েছেন আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে ফেরেশতারা হানজালাকে গোসল করাচ্ছেন।
মহানবী (সা.) অলৌকিক এই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, 'আমি দেখতে পাচ্ছি, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানে রুপার পাত্রে রাখা মেঘের শীতল পানি দিয়ে ফেরেশতারা তোমাদের ভাই হানজালাকে গোসল করাচ্ছে!' প্রিয় নবীর এমন ঘোষণার পর সাহাবিদের মধ্যে এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের আগ্রহ তৈরি হয় এবং এর পেছনের প্রেক্ষাপট উন্মোচিত হয়।
এই অলৌকিক ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য মহানবী (সা.) সাহাবিদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'তোমরা হানজালার স্ত্রীর কাছে গিয়ে খবর নাও, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তার কী অবস্থা ছিল?' রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই নির্দেশ পাওয়ার পর সাহাবিরা হানজালার স্ত্রীর কাছে গিয়ে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন।
হানজালার স্ত্রী জামিলা বিনতে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই সাহাবিদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান যে, হানজালা নবীজির আহ্বান শুনে ফরজ গোসল করার সময়টুকুও নেননি; বরং অপবিত্র অবস্থাতেই রণক্ষেত্রে ছুটে গিয়েছিলেন। ওহুদ যুদ্ধের ডাক আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আর কোনো লৌকিকতার অপেক্ষা না করে সরাসরি যুদ্ধ ময়দানে চলে যান।
জামিলা বিনতে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কেন শহিদ হানজালা (রা.)-কে ফেরেশতারা এসে গোসল করিয়েছিলেন। তার এই ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বয়ং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাকে পবিত্র করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যা মুমিন হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে।
ওহুদের ময়দানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর থেকেই হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.) মুসলিম উম্মাহর কাছে 'গাসিলুল মালাইকা' বা ফেরেশতা কর্তৃক গোসলপ্রাপ্ত সাহাবি হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। তার এই আত্মত্যাগ এবং ফেরেশতাদের মাধ্যমে গোসলপ্রাপ্তির সম্মান ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রয়েছে।








