ইসলামে সময় ব্যবস্থাপনা, জীবনের মূল্য ও অর্থহীন কাজ বর্জনের গুরুত্ব
ইসলামী জীবনদর্শন অনুযায়ী মানুষের জীবন ও সময় অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। সময় ব্যবস্থাপনা, দৈনন্দিন রুটিন সাজানো এবং অনর্থক কাজ পরিহার করার ওপর ইসলামে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ইসলামী জীবনদর্শন অনুযায়ী মানুষের জীবন ও সময় অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। মানুষের প্রতিটি মুহূর্তের সঠিক ব্যবহার এবং জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার বিষয়ে ইসলামে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। বর্তমান সময়ে সময় ব্যবস্থাপনা, দৈনন্দিন রুটিন সাজানো, অর্থহীন প্রযুক্তির ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব অর্পণ করার মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে ইসলামি জীবনবোধের আলোকে।
ইসলাম ধর্মে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুল (সা.) সুস্থতা ও অবসরকে মানবজীবনের এমন দুটি নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যার ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষই প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থাৎ, মানুষ সাধারণত সুস্থতা ও অবসরের সঠিক মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়, যা তাদের জীবনে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যক্তিজীবনে অর্থহীন ও অনর্থক কাজ বর্জন করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির ইসলামের অনন্য সৌন্দর্য হলো—সে এমন সমস্ত বিষয় সম্পূর্ণ বর্জন করে চলে, যা তার কোনো উপকারে আসে না। এই শিক্ষার আলোকে দৈনন্দিন জীবনে অর্থহীন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা একজন মুমিনের জন্য জরুরি।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের জন্য রাসুল (সা.) নিয়মিত দোয়া করতেন। তিনি একটি দোয়ায় বলতেন, হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আপনার নেয়ামত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া থেকে, আপনার দেওয়া সুস্থতা ও নিরাপত্তার পরিবর্তন ঘটে যাওয়া থেকে, আপনার আকস্মিক আজাব ও শাস্তি থেকে এবং আপনার যাবতীয় অসন্তুষ্টি থেকে।
পবিত্র কোরআনে মুমিনদের আদব ও সতর্কতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুরা হুজুরাতের ১ ও ২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে মুমিনগণ, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু কোরো না এবং পরস্পরের সঙ্গে যেভাবে উচ্চ স্বরে কথা বলো, তাঁর সঙ্গে সেভাবে উচ্চ স্বরে কথা বোলো না; এতে তোমাদের সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে অথচ তোমরা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না।
ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনায় সময়ের মূল্য ও বিচক্ষণতার শিক্ষা পাওয়া যায়। একবার ওমর ইবনুল খাত্তাবকে উদ্দেশ্য করে নবীজি বলেছিলেন, ওমর, তুমি কী বললে? এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে তৎকালীন ইসলামী সমাজের সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার পরিচয় পাওয়া যায়।
পরিশেষে, ইসলামি অনুশাসন মেনে জীবন পরিচালনা করলে কেবল সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয় না, বরং ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ লাভ করা সম্ভব হয়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সদ্ব্যবহার এবং অনর্থক কর্মকাণ্ড পরিহার করার মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।








