বিশ্বের মহাসাগরে রেকর্ড তাপমাত্রা ও ইউরোপে তীব্র দাবদাহ
২০২৬ সালের জুলাই মাসে বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে সর্বকালের রেকর্ড উষ্ণ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে তীব্র দাবদাহ, খরা ও দাবানলের মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপ।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে বিশ্বের মহাসাগরগুলো ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে মেরু অঞ্চল বাদে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ২০ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এই তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৮৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৈশ্বিকভাবে জুলাই মাসের প্রাক-শিল্পযুগের আনুমানিক গড়ের চেয়ে এই তাপমাত্রা ১ দশমিক ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
মহাসাগরের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপও তার ইতিহাসের উষ্ণতম জুন ও জুলাই মাস পার করেছে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই মাসে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই অঞ্চলের সাধারণ গড়ের চেয়ে ২ দশমিক ৭৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এই পরিস্থিতিকে তুলে ধরে কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের সামান্থা বার্গেস বলেছেন, জুলাই ২০২৬ পশ্চিম ইউরোপে ব্যতিক্রমী উষ্ণতার তৃতীয় ধারাবাহিক মাস ছিল।
সামান্থা বার্গেস আরও উল্লেখ করেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে চরম উষ্ণতাকে তীব্র করে তুলছে তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তার মতে, উষ্ণতা এবং খরা দিন দিন একে অপরকে আরও বেশি জোরালো করে তুলছে। এদিকে ইউরোপীয় সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস এবং কোপার্নিকাস অ্যাটমোস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই জলবায়ু সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দক্ষিণ ইউরোপে চরম গরম ও শুষ্ক পরিস্থিতির কারণে বড় ধরনের তীব্র দাবানল ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোপার্নিকাস অ্যাটমোস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিসের লরেন্স রুয়েল। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ক্রমবর্ধমানভাবে এমন সব গরম ও শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি করছে যা দক্ষিণ ইউরোপে বড় এবং উচ্চ-তীব্রতার দাবানলকে উৎসাহিত করছে এবং একই সাথে দাবানলের মৌসুমকে উত্তরের দিকে প্রসারিত করছে।
যুক্তরাজ্যেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। মে অফিসের মাইক কেন্ডন জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস গত ১৯০ বছরের রেকর্ডে তাদের সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই মাস অতিবাহিত করেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে ইংল্যান্ডের বড় অংশ এবং পুরো ওয়েলস আনুষ্ঠানিকভাবে খরা কবলিত বলে ঘোষণা করেছে এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়ার এই পরিবর্তন নিয়ে মাইক কেন্ডন আরও বলেন, আমরা ঠিক এই মুহূর্তে ঐতিহাসিক এবং অভূতপূর্ব পরিবর্তনের একটি সময়ের মধ্যে বসবাস করছি। তার মতে, বর্তমানের প্রমাণগুলো পরিষ্কারভাবে দেখায় যে বিংশ শতাব্দীর জলবায়ু এখন আর নেই। আবহাওয়ার এই চরম রূপান্তরের ফলে দক্ষিণ ইংল্যান্ডে বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনটি ১৯৬১-১৯৯০ সালের তুলনার গড়ে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ ছিল। এছাড়া এটি ১৯ শতকের শেষের দিকের গড়ের তুলনায় গড়ে ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ।








