বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ও এএমআর নিয়ে নতুন গবেষণা
বাংলাদেশ ও কেনিয়ার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধির আওতায় আসা পরিবারগুলোর শিশুদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা এএমআর হলো এমন অবস্থা যখন জীবাণু ওষুধকে আর ভয় পায় না এবং অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এই গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও কেনিয়ার গ্রামীণ জনগোষ্ঠী নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষণার ফলাফলগুলো বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার কমিউনিকেশনস'-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের শিশুদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের প্রায় ৯৮ শতাংশই তাদের বয়স ছয় মাস হওয়ার আগেই অন্তত একবার অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই শিশুরা বছরে গড়ে প্রায় ১০ বার অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স নিয়েছে। তুলনামূলকভাবে উন্নত বিশ্বের চিত্র ভিন্ন, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে একটি শিশু বছরে গড়ে দুবারের কম অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স নেয়।
বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে অ্যান্টিবায়োটিক ক্রয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের প্রায় ৭৭ শতাংশই কোনো ধরনের চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া সরাসরি ফার্মেসি থেকে কেনা হয়েছিল।
তবে এই গবেষণায় আশাব্যঞ্জক একটি দিকও সামনে এসেছে। যেসব পরিবার বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধির আওতায় এসেছে, সেসব পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের হার লক্ষণীয়ভাবে কমেছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যবিধির আওতায় আসা পরিবারগুলোতে আগের ৯০ দিনে অন্তত একবার অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের হার ১০ থেকে ১৪ শতাংশ কম ছিল। এছাড়া, একাধিকবার অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স নেওয়ার হার ২৬ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।








