নির্মাণে ব্লক ব্যবহারে মাঠপর্যায়ে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে
পরিবেশ রক্ষায় সরকারি নির্মাণকাজে মাটি পোড়ানো ইটের বদলে শতভাগ ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ কংক্রিট প্রডাক্ট অ্যান্ড ব্লক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি জুলকর শাহীন।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:০২· ১ মিনিট পড়া

পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সরকারি সব নির্মাণকাজে মাটি পোড়ানো ইটের স্থলে শতভাগ ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে। পরিবেশ সুরক্ষায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ইটের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত থাকলেও তার সফল প্রয়োগ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
বাংলাদেশ কংক্রিট প্রডাক্ট অ্যান্ড ব্লক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে আন্তরিক হলেও দুঃখের বিষয়, মাঠ পর্যায়ে যেসব সংস্থা কাজ করে, তারা আন্তরিক নয়। সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, এই অনাগ্রহের কারণে সরকারের সদিচ্ছা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না, যা পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী প্রসারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে সরকারি নির্মাণকাজে ব্লকের ব্যবহার মাত্র ৬ থেকে ৮ শতাংশ। অর্থাৎ, সরকারের পক্ষ থেকে শতভাগ ব্যবহারের নির্দেশনা থাকার পরও মাঠপর্যায়ে এর প্রয়োগ মোটেও সন্তোষজনক নয়। এই স্বল্প ব্যবহারের পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নানা জটিলতা কাজ করছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
শিল্পটির প্রসারে বড় বাধা হলো বড় অংকের বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা এবং ঋণ প্রাপ্তির জটিলতা। এ বিষয়ে জুলকর শাহীন বলেন, একটি মানসম্মত স্বয়ংক্রিয় ব্লক কারখানা স্থাপন করতে ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ দরকার হয়। কিন্তু ঋণ পেতে বেশ জটিলতার মুখে পড়তে হয়। এই বিশাল পরিমাণ মূলধন সংগ্রহ এবং ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক ও আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।
পাশাপাশি, এই খাতে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন করসংক্রান্ত জটিলতাও রয়েছে। বর্তমানে পোড়ামাটির ইটের ওপর প্রতি হাজার ইটে ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারিত রয়েছে। তুলনামূলকভাবে, হলো ব্লক ছাড়া অন্যান্য ব্লক উৎপাদনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত। অন্যদিকে, মাঝারি মানের একটি ইটভাটা বছরে ৫০ থেকে ৬০ লাখ ইট উৎপাদন করে থাকে, যা প্রচলিত বাজারের একটি বড় অংশ দখল করে আছে।
এই পরিস্থিতি উত্তরণে খাতটির উদ্যোক্তারা সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরেছেন। জুলকর শাহীন বলেছেন, আমাদের দাবি, অতি দ্রুত ভ্যাট জটিলতা দূর করে এবং নতুন মানসম্মত ব্লক কারখানা প্রতিষ্ঠায় স্বল্প সুদে মূলধন জোগান দিয়ে এই শিল্পের অগ্রগতির পথ সুগম করা হোক। রিহ্যাব, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) এবং বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতায় এই খাতের সংকট দূর করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








