সরকারি নির্মাণকাজে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ব্লক নিশ্চিতের পরিকল্পনা
সরকারি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লকের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট action plan বা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রচলিত ইটের ব্যবহার কমাতে ২০১৯ সালে আইন সংশোধন করা হলেও এখনও সরকারি নির্মাণকাজে ব্লকের ব্যবহার ১০ শতাংশের কম রয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের সরকারি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কর্মসূচি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। দেশের নির্মাণ খাতে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সব ধরনের অবকাঠামো ও নির্মাণকাজে প্রচলিত পোড়ানো ইটের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে তার পরিবর্তে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহার নিশ্চিত করা। এর আগে সাধারণ ইটের ব্যবহার কমানোর উদ্দেশ্যে সরকার ২০১৯ সালে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করেছিল। তা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়নে দেখা গেছে, দেশে সরকারি নির্মাণকাজে ব্লকের ব্যবহার এখনও ১০ শতাংশের কম রয়েছে। অথচ প্রচলিত ইটের তুলনায় পরিবেশবান্ধব ব্লক অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও টেকসই হতে পারে। তথ্যানুযায়ী, একটি সাধারণ মানের ইট বিক্রির ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট ধার্য রয়েছে, পক্ষান্তরে পরিবেশবান্ধব ব্লক বিক্রির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য রয়েছে।
অর্থনৈতিক ও উৎপাদনগত দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, দেশে বর্তমানে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক উৎপাদনকারী ছোট-বড় অন্তত ৪০০ কারখানা রয়েছে। একটি মানসম্মত স্বয়ংক্রিয় ব্লক কারখানা স্থাপন করতে ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, একটি মাঝারি আকারের কারখানার জন্য পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়ে থাকে।
বাজারমূল্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিটি প্রচলিত ইটের দাম ১২ থেকে ১৩ টাকা পড়ে, যেখানে একটি ব্লকের দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। তবে একটি ব্লক মূলত পাঁচটি ইটের সমান কাজের উপযোগী। সেই হিসেবে পাঁচটি ইটের দাম পড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, যা ব্লক ব্যবহারের অর্থনৈতিক সুফল স্পষ্ট করে তোলে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার সাথে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা এইচবিআরআই, বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি বা বিসিবিপিএমএস, গণপূর্ত অধিদপ্তর, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, রাজউক, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং গণমাধ্যম হিসেবে সমকাল সংশ্লিষ্ট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে।








