মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অনিশ্চয়তা
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজে অনিশ্চয়তা ও বিলম্ব দেখা দিয়েছে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজে অনিশ্চয়তা ও বিলম্ব দেখা দিয়েছে। মাদারগঞ্জের জোড়খালী ইউনিয়নের কাইজার চরে ৩২৫ দশমিক ৬৫ একর জমিতে ২০২২ সালে এই প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে হাতে নেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি নিয়ে বর্তমানে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বার্ষিক এক লাখ ৭৮ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াট/ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ ছাড়া উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পুরো কর্মযজ্ঞের জন্য মোট এক হাজার ৬১২ কোটি ৭৩ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সংশোধিত আকারে এই প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করে।
প্রকল্প এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছেন। প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ১৫ থেকে ২০টি পরিবারের মধ্যে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে মাত্র ২৪১টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এই পুনর্বাসন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সবুরা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'সাত সদস্যের পরিবারের জন্য একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। এত মানুষ নিয়ে সেখানে বসবাস করা কঠিন।' একই ধরনের কষ্টের কথা জানিয়েছেন পারুল বেগমসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারাও।
এদিকে প্রকল্পের কাজে গতি আনতে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য সম্প্রতি নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট 'আটলানটা এন্টারপ্রাইজ' নামক প্রতিষ্ঠানকে এই প্রকল্পের নতুন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে এই প্রকল্পের কাজে যুক্ত ছিল আমরারাজা ইনফ্রা প্রাইভেট লিমিটেড এবং এএফআরওয়াই সুইজারল্যান্ড লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানগুলো। নতুন পরামর্শক নিয়োগের ফলে কাজের গতি বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
তবে প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও কর্তৃপক্ষের দাবি খুব শীঘ্রই মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, 'প্র প্রকল্পের ছোটখাটো কাজ চলমান রয়েছে। মূল নির্মাণকাজ শিগগির শুরু হবে। এটি শুরু হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। মূল কাজ শুরু হলে সমস্যাগুলো সমাধান করে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে।'
অন্যদিকে একনেক সভা ও সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত করে ইউসুপ আলী বলেন, 'একনেকে সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' সব মিলিয়ে স্থানীয় মানুষের পুনর্বাসন সমস্যার সমাধান এবং দ্রুত মূল নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার মাধ্যমেই এই বড় প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দেখতে চান এলাকাবাসী।








