নির্দিষ্ট কাউকে জান্নাত-জাহান্নামের ফয়সালা নয়: ইসলামি আলোচনা
ইসলামি শরিয়তে সুনির্দিষ্ট কোনো জীবিত বা মৃত মুসলিমকে জান্নাত বা জাহান্নামী ঘোষণা করা অনুচিত। চূড়ান্ত ফয়সালার এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহর।
প্রকাশ: · আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৪৬· ১ মিনিট পড়া

ইসলামি তত্ত্বে জান্নাত ও জাহান্নামের চূড়ান্ত ফয়সালার ইখতিয়ার বা ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে ন্যস্ত রয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট জীবিত বা মৃত মুসলিম ব্যক্তি সম্পর্কে নিজস্ব ধারণা থেকে তাকে নিশ্চিতভাবে জাহান্নাসী বা জান্নাতি ঘোষণা করা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে অনুচিত বলে বিবেচিত হয়। এই বিষয়ের ওপর সম্প্রতি ঢাকায় একটি ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনায় জানানো হয় যে, কোনো সুস্পষ্ট ওহী বা দিব্যবাণী না থাকলে কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্ট করে জাহান্নামের অধিবাসী সাব্যস্ত করা জায়েজ নয়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, চূড়ান্ত বিচার ও মানুষের শেষ পরিণতি নির্ধারণের ভার মানুষের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
এই প্রসঙ্গে বনি ইসরাইলের অতীতের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উদাহরণ দেওয়া হয়। বনি ইসরাইলের এক অধিক ইবাদতকারী ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে পাপ কাজে লিপ্ত দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিলেন, 'আল্লাহর কসম, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন না।' ওই ইবাদতকারী ব্যক্তি নিজের ইবাদতের অহংকার ও ক্ষোভের বশে এই মন্তব্য করেছিলেন।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় বলা হয়, পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা ওই ঘোষণাকারীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন রেখেছিলেন, 'কে সে, যে আমার ব্যাপারে কসম করে বলছে, আমি অমুককে ক্ষমা করব না?' এরপর আল্লাহ তাআলা নিজেই ঘোষণা করেন, 'আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমার আমল নষ্ট করে দিলাম।' এই বর্ণনার মাধ্যমে মূলত আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
আলোচকরা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, পাপ কাজের নিন্দা জানানো এবং মানুষকে যেকোনো ধরনের অন্যায় বা অসৎ কাজ থেকে সতর্ক করা বা বারণ করা জরুরি। এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় নির্দেশ। তবে পাপের নিন্দা জানানোর অর্থ এই নয় যে, মানুষ নিজ দায়িত্বে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির চূড়ান্ত পরিণতি বা জান্নাত-জাহান্নাম নির্ধারণ করে দেবে।
রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, ঢাকা-র পক্ষ থেকে এই ইসলামি আলোচনাটি পরিচালিত হয়। এই আয়োজনের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রথম আলো-তে প্রকাশিত হয়েছে। ফয়জুল্লাহ রিয়াদ এই পুরো বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করেছেন।
সবশেষে বলা হয়েছে, ইসলামি শরিয়তের মূল নীতিমালা অনুযায়ী বান্দার জীবনের ভালো বা মন্দ কাজের হিসাব নিকাশ এবং তার চূড়ান্ত পরিণতির ফয়সালা মানুষ করতে পারে না। শরিয়তের এই মূলনীতিটি অনুসরণের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে এবং অন্যের তাকদীর নিয়ে বাড়াবাড়ি থেকে দূরে থাকতে পারে।








