নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি, মৃত্যু ও আক্রান্ত বাড়ছে
নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা সচেতন থাকার ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে এবং জেলায় দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ও সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে আগস্ট মাসজুড়ে পুরো জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৭১০ জন। এছাড়া চলতি মাসের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে আরও ১৪৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
আগস্ট মাসে নারায়ণğগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর ব্যাপক বিস্তার দেখা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে সদর উপজেলায় ২৫০ জন, বন্দর উপজেলায় ২৩৯ জন, সোনারগাঁয়ে ১০০ জন, আড়াইহাজারে ৫৩ জন এবং রূপগঞ্জে ৪৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে জেলার প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে।
ডেঙ্গুর এই ভয়াবহ প্রকোপে ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের চেইনম্যান আবু ছিদ্দিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকান্দা চৌধুরীপাড়া এলাকার গৃহবধূ আশা বেগম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, খানপুর হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বাড়ছে এবং ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণ সচেতন হলে সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব এবং এ বিষয়ে সরকারেরও বিশেষ নজর রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডা. আবুল বাশার জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান পর্যাপ্ত রয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই এবং সঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। তিনি আরও জানান যে প্রায় ৯০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা নেন। তাই ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতন থাকাটা অনেক জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।








