দেশে বাড়ছে হাম ও ডেঙ্গু সংক্রমণ, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৯
বাংলাদেশে চলমান হাম ও ডেঙ্গু সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জন এবং হাম উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে ১,১১০ জন এবং নতুন হাম রোগী ১,০৯৭ জন শনাক্ত হয়েছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর এবং হামের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু ও হাম মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এই সময়ে নতুন করে ১,১১০ জন ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরে বুধবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৩৮,২৮০ জন।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়, আক্রান্তদের মধ্য থেকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে এ পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৫,৪৩৩ জন রোগী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২,৭৪০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি দেশে হামের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই চার শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ১ জন মারা গেছেন। একই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১,০৯৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ৬৩ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১,০৩৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৯৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৮৮৪ জন। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১,৬০,১৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯,৪৭৭ জন।
হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে হাসপাতালে ভর্তির চিত্রও ব্যাপক। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,৪০,৪৭২ জন রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১,৩৫,৪১৭ জন।
চলমান এই জোড়া সংক্রমণ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বস্তির বাসিন্দারা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। হাম ও ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আয়শা বেগম নামের এক নারী বলেন, "বস্তিতে দুই বাচ্চাকে রেখে আসি, কার সাথে খেলে, কার সাথে খায় কিছুই কইতে পারি না। হাম-ডেঙ্গু নিয়া ডর লাগে, কিন্তু কি করুম, কামে তো আইতেই হইব, না হলে প্যাটে ভাত জুটব ক্যামনে। আমাদের বস্তিতে অনেক বাচ্চার জ্বর হইছে, আমার বাচ্চারও জ্বর হইছে। আমার বাচ্চা হামের টিকা পায় নাই। এবার টিকা দিলে দিয়া নিব।"








