নারায়ণগঞ্জে ভূমি অফিসে অনুপস্থিতি ও আগাম স্বাক্ষর: ২০ জনের নোটিশ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অনুপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের অনিয়ম পান ভূমি প্রতিমন্ত্রী। এ ঘটনায় দুই সহকারী কমিশনারসহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র দেখতে পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অফিসে অনুপস্থিত থাকা এবং হাজিরা খাতায় আগের দিন স্বাক্ষর করে রাখার মতো গুরুতর ঘটনায় দুই সহকারী কমিশনারসহ মোট ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই আকস্মিক পরিদর্শন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনাটি ঘটে।
প্রাপ্ত তথ অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিস আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের সময়ই অফিসটির কার্যক্রমে বড় ধরনের ফাঁকি ও অনিয়মের বিষয়টি সামনে চলে আসে।
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী দেখতে পান যে, সে সময় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের নির্ধারিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। শুধু তাই নয়, আরও একটি গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে, যেখানে দেখা যায় অনেক কর্মচারী ৩১ আগস্টের তারিখের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করে রেখে গেছেন। উপস্থিত না থেকেই হাজিরা খাতায় এমন আগাম স্বাক্ষর করে রাখার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
এই অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দুই সহকারী কমিশনারসহ মোট ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এই ২০ জনের মধ্যে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের ২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।
কারণ দর্শানোর এই নোটিশে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে এর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের এই অনিয়মের বিষয়ে জবাব দাখিল করতে হবে।
ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রায়হান কবির গণমাধ্যমকে বলেন, "সবাই হয়তো দোষ করেননি। কেউ কেউ আগাম স্বাক্ষর করেছেন। তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলা যাবে।"
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় জাকিয়া সরওয়ার লিমা, সাদিয়া আক্তার, অংমাচিং মারমা, রিনাত ফৌজিয়া, রায়হান কবির, আব্দুস সাত্তার, মো. আসাদুজ্জামান, মাসুম মিয়া, মাহফুজা আক্তার, মীর মোজাম্মেল হক, আব্দুর সালাম রূপম, ইউনূস আলী, মোক্তার হোসেন, নাদিম হায়দার, ফারুক আলম, জামাল উদ্দিন, জান্নাত হোসেন, তানজিরুল হক, মোকলেছ শেখ, রফিকুল ইসলাম, মিল্টন রায় ও সাহাদাতসহ সংশ্লিষ্টরা আলোচনায় রয়েছেন।








