দেশে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা অস্ত্র উৎপাদন কারখানা স্থাপনে চুক্তি স্বাক্ষর
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দেশের দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা অস্ত্র উৎপাদন কারখানা স্থাপনের আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর ও হস্তান্তর অনুষ্ঠান হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এছাড়া তিনি সাভারে দুটি পৃথক বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনেও যোগ দেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে দেশের দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা অস্ত্র উৎপাদন কারখানা স্থাপনের আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর ও হস্তান্তর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলের সম্প্রসারিত অংশে এই প্রতিরক্ষা অস্ত্র উৎপাদন কারখানাটি স্থাপন করা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশের প্রতিরক্ষা খাতের স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অস্ত্র উৎপাদন করে শুধু নিজেদের চাহিদা মেটানো নয়, আমরা এটিকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করতে চাই। এই শিল্প থেকে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। তার এই বক্তব্যে দেশের অস্ত্র উৎপাদন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা প্রকাশ পায়।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও সুনির্দিষ্ট করে বলেন, আমরা যা কিছু ফায়ারিং করব, সবই উৎপাদন করব। এই কারখানা থেকে আমাদের নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত সমরাস্ত্র বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। ফৌজদারহাটে জলিল টেক্সটাইল মিলের জায়গায় গড়ে ওঠা এই কারখানাটি চালুর মাধ্যমে দেশের সামরিক শক্তির উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ও পরে সেনাপ্রধানের অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমও সাভার অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সাভারে অবস্থিত কোর অব মিলিটারি পুলিশ সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (সিএমপিসিঅ্যান্ডএস) প্রাঙ্গণে কোর অব মিলিটারি পুলিশ বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন সাভারের রিমাউন্ট ভেটেরিনারি অ্যান্ড ফার্ম (আরভিঅ্যান্ডএফ) ডিপো এলাকায় আরভিঅ্যান্ডএফ কোরের বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সাভারে অনুষ্ঠিত এই অধিনায়ক সম্মেলনগুলোতে সংশ্লিষ্ট কোরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সেখানে কোরের কার্যক্রমের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং পেশাগত মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
সব মিলিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবারের এই অনুষ্ঠান ও সম্মেলনগুলো দেশের সামরিক খাত এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ কাঠামোর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। একদিকে সীতাকুণ্ডে জলিল টেক্সটাইল মিলের জায়গায় নতুন অস্ত্র কারখানা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের সমরাস্ত্র উৎপাদন শিল্পের এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো, অন্যদিকে সাভারে বিভিন্ন কোরের বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনের মাধ্যমে বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পথ আরও সুগম হলো।








