সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষাক্ত গ্যাসীয় প্রভাবে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ২৬ জুন ২০২৫ থেকে ১৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ১৫ শ্রমিক নিহত ও ৮১ জন আহত হয়েছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এলএনজি ক্যারিয়ার এমটি রসি জাহাজের ভেতরে কাজ করার সময় সন্দেহভাজন বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে জাহাজ ভাঙা শিল্পের নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য সেফ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টালি সাউন্ড রিসাইক্লিং অব শিপস গত ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে অন্তত ৮৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এই সময়ের মধ্যে মোট ১৫ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৮১ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
জাহাজ ভাঙা শিল্পের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের বিষয়ে রাজিব রায়হান এবং আহমেদুলের মতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এই শিল্পে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এবং দুর্ঘটনা রোধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ অনুভব করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের মোট ৩১টি সচল শিপইয়ার্ডের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৩টি সম্পূর্ণ সবুজ বা গ্রিন শিপইয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। পাশাপাশি, বাকি ৮টি শিপইয়ার্ড এই সার্টিফিকেশনের আওতায় বর্তমানে ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে আহমেদুল করিম চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ এখন প্রাথমিক dismantling বা উন্মুক্ত সমুদ্র সৈকতে পুরোনো পদ্ধতিতে জাহাজ ভাঙার প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্মিত শিল্পভিত্তিক রিসাইক্লিংয়ের দিকে একটি ধাপে ধাপে রূপান্তরের বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে পারে। তার এই বক্তব্যে সমুদ্র সৈকতের অনিরাপদ পরিবেশ ছেড়ে আধুনিক শিল্প কারখানার গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, শিপইয়ার্ডগুলো সবুজ সনদ অর্জনের পথে থাকলেও শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং বিষাক্ত গ্যাসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও অনেক বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে এলএনজি ক্যারিয়ারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজে কাজ করার সময় নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না করলে এমন প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব নয়।
সীতাকুণ্ডের এই ঘটনার পর শ্রমিক সংগঠন এবং শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও জোরালো নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার এবং দেশের সব শিপইয়ার্ডে কঠোরভাবে নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শ্রমিককে এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।








