সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিক নিহত, ফেরদৌস স্টিলে দুর্ঘটনা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষাক্ত গ্যাস নিসরণে ৯ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ থেকে ১২ জন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনের ফলে ৯ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। ছুটির দিন শুক্রবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে, যা দেশের ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পখাতগুলোকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শ্রমিকরা একটি পুরোনো এলএনজি ক্যারিয়ার বা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বহনকারী জাহাজ কাটার কাজ করছিলেন। ঠিক সেই সময়ই বিষাক্ত গ্যাস লিক বা নির্গত হয়। এই আকস্মিক গ্যাস নিঃসরণের কারণে ঘটনাস্থলেই ৫ জন শ্রমিক মারা যান।
দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত বা অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৪ জন শ্রমিক মারা যান। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আরও ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ কিংবা আহত হয়েছেন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর বা ডিআইইএফ জানিয়েছে যে, শ্রমিকরা যখন পুরোনো এলএনজি জাহাজের স্ক্র্যাপ কাটছিলেন, তখনই সেখানে এই বিষাক্ত গ্যাস লিক হয়েছিল।
এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইইএফ) ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি, ৪ মে এবং ৮ জুন অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন পরিদর্শনের নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডিআইইএফ-এর পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের শ্রম আদালতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই খাতে ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার পূর্ণকালীন সমমানের কর্মসংস্থান রয়েছে। তবে নিরাপত্তাঝুঁকি সবসময়ই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০১৪ সাল থেকে সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং দুর্ঘটনাগুলোতে ১৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২০০ জনের বেশি। কেবল চলতি বছরেই এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশার কারণে ১২ জন মানুষ তাদের জীবন হারিয়েছেন।








