দিল্লিতে শুরু ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন, অংশ নিচ্ছেন ১১ দেশের নেতারা
ভারতের দিল্লিতে এই সপ্তাহে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে ১১টি সদস্য দেশের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যেই ব্রিকস মুদ্রার বিকল্প নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০০ শতাংশ শুল্কের হুঁশিয়ারি আলোচনায় রয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এই সপ্তাহে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে ১১টি ব্রিকস সদস্য দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের প্রভাবশালী এই জোটের বর্তমান তৎপরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বর্তমান ব্রিকস জোটে ভারত ও চীন ছাড়াও ব্রাজিল, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, সৌদি আরব, ইথিওপিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সম্মেলনে অংশ নেওয়া ১১টি দেশের নেতারা বিশ্বমঞ্চের নানা সমীকরণ নিয়ে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
বিবিসি মনিটরিংয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রিকস জোট বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এছাড়া বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশ এই জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।
সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও নীতি নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলে যে, যুক্তরাষ্ট্র ডলারের বিকল্প হিসেবে যদি ব্রিকস দেশগুলো অন্য কোনো মুদ্রা সমর্থন করে, তবে তাদের ওপর শতভাগ অর্থাৎ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সামর্থ্য ভারতের নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই জোটে এমন কিছু সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে যারা নিজেদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখে না।
ব্রিকস জোটের অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কন্টিনজেন্সি রিজার্ভ অ্যারেঞ্জমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ রয়েছে। জি২০, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি ব্রিকস এখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করছে।
দিল্লির এই শীর্ষ সম্মেলনে জি৭ জোট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে ব্রিকস নেতারা কীভাবে এগিয়ে যান, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সম্মেলন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।








