ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ঘুমের ওষুধ সেবনের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি
অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে সেবন করছেন, যা দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এসব ওষুধ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে অবশ করে কৃত্রিমভাবে ঘুম পাড়ায় এবং নানা ধরনের মারাত্মক আসক্তি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততা ও মানসিক চাপের কারণে ঘুমের সমস্যা এখন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে সরাসরি দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে সেবন করছেন। প্রথম আলোর এই সচেতনতামূলক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই স্বয়ংক্রিয় ও অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ সেবনের পেছনের চিত্র এবং এর ভয়াবহ সব পরিণতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ সেবন কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। অনেকেই না বুঝে বা সাময়িক স্বস্তির জন্য নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন করেন। অথচ দীর্ঘ মেয়াদে ঘুমের ওষুধ স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর মাধ্যমে শরীরে মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে ছাড়ানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
কার্যপদ্ধতির দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, ঘুমের ওষুধ মূলত মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে অবশ করে কাজ করে। স্বাভাবিক উপায়ে ঘুমের পরিবেশ তৈরি করার পরিবর্তে এই ওষুধগুলো কৃত্রিমভাবে ঘুম পাড়ায়। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।
অনিয়মিত ও বিনা পরামর্শে ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের ফলে শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। প্রথম আলোর তথ্যে জানানো হয়েছে, এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে স্মৃতিভ্রম, কোনো কিছুতে মনোযোগের অভাব এবং সকালের দিকে প্রাতঃকালীন ক্লান্তি। এই লক্ষণগুলো মানুষের দৈনন্দিন কাজ ও কর্মক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।
স্মৃতিভ্রম ও মনোযোগের অভাব ছাড়াও ঘুমের ওষুধের আরও একটি বড় ঝুঁকি রয়েছে শ্বাসকষ্টের ক্ষেত্রে। অনিয়ন্ত্রিত ঘুমের ওষুধ সেবনের ফলে শ্বাসকষ্ট বা মারাত্মক স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ঘুমের মধ্যে এই ধরনের শ্বাসকষ্ট রোগীর জীবনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাই বর্তমান সময়ে ঘুমের ওষুধের এই অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত অপব্যবহার রোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ সেবনের যে প্রবণতা সমাজে দেখা যাচ্ছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হতে হবে।








