ডলফিনের অদ্ভুত ঘুম: অর্ধেক সজাগ রেখে বাঁচার কৌশল
ডলফিনের মস্তিষ্কের একটি অর্ধেক ঘুমিয়ে থাকলেও অন্য অর্ধেক জেগে থাকে এবং জেগে থাকা অংশের বিপরীত চোখটি খোলা থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় ডলফিনের এই অদ্ভুত ঘুমের নাম ইউনিহেমিস্ফেরিক স্লো-ওয়েভ স্লিপ।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ডলফিনের ঘুম নিয়ে বিজ্ঞান জগতে দীর্ঘকাল ধরেই কৌতূহল রয়েছে। ডলফিনের মস্তিষ্কের একটি অর্ধেক ঘুমিয়ে পড়লে বাকি অর্ধেক জেগে থাকে এবং জেগে থাকা অংশের বিপরীত চোখটি খোলা থাকে। এই বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তারা নিজেদের জীবনের স্বাভাবিক ক্রিয়া সচল রাখে।
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে এই অদ্ভুত ঘুমের বৈজ্ঞানিক রূপ। বিজ্ঞানের ভাষায় ডলফিনের এই অদ্ভুত ঘুমের নাম ইউনিহেমিস্ফেরিক স্লো-ওয়েভ স্লিপ। এর মাধ্যমে ডলফিনের মস্তিষ্কের দুই অংশ আলাদাভাবে কাজ করে।
১৯৬৪ সালে গবেষক জন সি লিলি প্রথম ডলফিনের এই চোখ বন্ধ ও চোখ খোলা ব্যাপারটি বুঝতে পারেন। তার এই প্রাথমিক অনুধাবনের পর থেকেই ডলফিনের ঘুম নিয়ে আরও গভীরভাবে গবেষণা শুরু হয়।
পরবর্তীতে গবেষকদের কাজে যুক্ত হয় আরও উন্নত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। রুশ জীববিজ্ঞানী লেভ মুখামেতভ ইইজি পরীক্ষার মাধ্যমে ডলফিনের মস্তিষ্কের দুই হেমিস্ফিয়ারের আলাদা আলাদা তরঙ্গ ব্যাখ্যা করেন।
ডলফিনের এই বিশেষ ঘুমের নেপথ্যে রয়েছে তাদের বেঁচে থাকার শারীরিক বাধ্যবাধকতা। ডলফিনের ফুসফুস আছে কিন্তু ফুলকা নেই, তাই শ্বাস নেওয়ার জন্য নিয়মিত পানির ওপরে উঠতে হয়।
শুধু ডলফিন নয়, জলজ প্রাণীদের আরও কিছু প্রজাতির মধ্যেও এই বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বেলুগা তিমি, পাইলট তিমি, পরপয়েজ ও আমাজন নদীর ডলফিনের মধ্যেও এই ঘুমের ধরন দেখা যায়।
জলজ প্রাণীর পাশাপাশি স্থলচর কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রেও এমন অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ মিলেছে। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা প্রমাণ করেন যে কুমিরও ঘুমানোর সময় এক চোখ খোলা রেখে চারপাশ সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।








