জাতিসংঘে মারকেটর মানচিত্র বাদ দিয়ে 'ইকুয়াল আর্থ' পাসের প্রস্তাব
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বহুল ব্যবহৃত মারকেটর মানচিত্রের পরিবর্তে ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ১৬৪-১ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছে টোগো।
প্রকাশ: · আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৬· ১ মিনিট পড়া

৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও ভৌগোলিক উপস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মারকেটর মানচিত্রের পরিবর্তে ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে ঐতিহ্যবাহী মানচিত্রের ব্যবহার কমিয়ে নতুন এই মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগে প্রধান নেতৃত্ব দিয়েছে টোগো। সেনেগালের ডাকার এবং জাতিসংঘ সূত্রে প্রাপ্ত তথ็্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভৌগোলিক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। টোগো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আফ্রিকার ইউনিয়ন এই কার্যক্রমে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত ছিল বলে রয়টার্স পরিবেশিত খবরে জানা গেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি বিপুল ভোটে পাস হয়। ভোটাভুটির ফলাফলে দেখা যায়, প্রস্তাবটির পক্ষে ১৬৪টি ভোট পড়েছে এবং মাত্র একটি দেশ প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। বিপক্ষে ভোটদানকারী একমাত্র দেশটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ভোটাভুটিতে মোট ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
নতুন এই মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছেন টোগোর প্রতিনিধি রবার্ট দুসেই। তিনি এ বিষয়ে দুটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। রবার্ট দুসেই বলেছেন, “একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয়।” এছাড়াও তিনি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “বিশ্ব বদলে যাচ্ছে। বদলাচ্ছে আফ্রিকাও।”
উল্লেখ্য, শত শত বছর ধরে ব্যবহৃত মারকেটর মানচিত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আয়তন সঠিকভাবে ফুটে ওঠে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, নতুন এই আলোচনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে আফ্রিকা মহাদেশটি গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়। অথচ পুরোনো মারকেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার চেয়ে অনেক বড় দেখাতো।
তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই প্রস্তাবটির আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পাস করা এই প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তা সত্ত্বেও বিশ্ব মানচিত্রে একটি সুষম ও বাস্তবসম্মত রূপ আনতে এই প্রস্তাবের নৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।








