জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নতুন বিশ্ব মানচিত্র গ্রহণের প্রস্তাব পাস
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে 'কারেক্ট দ্য ম্যাপ' নামের নতুন বিশ্ব মানচিত্র গ্রহণের একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ১৬৪টি দেশের ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবে একমাত্র বিপক্ষে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
প্রকাশ: · আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৭· ১ মিনিট পড়া

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নতুন বিশ্ব মানচিত্র গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে। শুক্রবার জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামের প্রস্তাবটি পাস হয়। বিশ্ব মানচিত্রে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃত আয়তন ও ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ অনুযায়ী, ১৫৬৯ সালে জেরার্ডাস মার্কেটর বর্তমান প্রচলিত মার্কেটর প্রজেকশন মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। দীর্ঘকাল ধরে এই মানচিত্রটি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এই মানচিত্রে ভৌগোলিক আয়তন নিয়ে নানা ত্রুটি ও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এই মানচিত্রে আফ্রিকা মহাদেশকে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে অনেক ছোট দেখানো হয়, অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়।
ঐতিহ্যগত মানচিত্রের এসব ত্রুটি সংশোধনের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ মানচিত্র উন্মোচিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নতুন মানচিত্র গ্রহণের এই প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয় এবং ভোটাভুটিতে তা পাস হয়।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে মোট ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় কিছু ভিন্নমতও দেখা যায়। প্রস্তাবের পক্ষে ১৬৪টি দেশ ভোট দিলেও একমাত্র বিপক্ষে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ভোটদানে বিরত থাকে ছয়টি দেশ।
এই প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন, বাহামাস, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ ও দেশ। প্রস্তাব পাসের পেছনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন।
ফ্রান্সের পক্ষ থেকে জঁ-নোয়েল বারো এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন দৃশ্যত আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় অতিরিক্ত গুরুত্ব পেয়ে আসছে। এসব বিকৃতি অবশেষে চিন্তায় শিকড় গেড়ে বসেছে এবং এটি সংশোধনের সময় এসেছে।
আফ্রিকান ইউনিয়নের আম্মা তওম-আমোয়াহ এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, মানচিত্রে একসময় ছোট করে রাখা আফ্রিকা এখন তার প্রকৃত ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক, নৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক আকার তুলে ধরার দাবি জানাচ্ছে। এই প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করার পথে এক ধাপ অগ্রগতি হলো।








