ডিআরসিতে অবনতিশীল ইবোলা পরিস্থিতি: নতুন করে আক্রান্ত ৫১
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশে নতুন করে ৫১ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশে নতুন করে ৫১ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৩ আগস্ট প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলার এই প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই প্রাদুর্ভাবটি গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বর্তমান এই প্রাদুর্ভাবে ইবোলার 'বুন্দিবুগিও' ধরন শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এটিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই স্বাস্থ্য সংকটে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ডিআরসির ওপর নিবদ্ধ রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমান প্রাদুর্ভাবে ইবোলায় মৃত্যুহার বেড়ে প্রায় ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই মারাত্মক প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন।
চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন ফ্রন্টলাইনাররা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৪৫ জন মারা গেছেন। এত বড় সংখ্যায় স্বাস্থ্যকর্মীর আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল প্রিভেনশনসহ বিভিন্ন সংস্থা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস, আবদুসসালামি নাসিদি ও পোপ লিও এই সংকটের বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকাদানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৭০ হাজার ডোজ 'এরভেবো' টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই টিকার যথাযথ প্রয়োগ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশের সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








