জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, বাদ পড়ছে মারকেটর মানচিত্র
ষোড়শ শতকের পুরোনো মারকেটর বিশ্ব মানচিত্র বাদ দিয়ে নতুন 'ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন' মানচিত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ। সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে ১৬৪টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জাতিসংঘ ষোড়শ শতকের পুরোনো মারকেটর বিশ্ব মানচিত্র বাদ দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বজুড়ে ভূগোলের পাঠ ও আন্তর্জাতিক নানা কার্যক্রমে যে মানচিত্রটি ব্যবহার হয়ে আসছে, তা অবশেষে পরিবর্তনের পথে হাঁটল বিশ্বসংস্থাটি।
এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে নতুন মানচিত্র হিসেবে 'ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন' ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৬৪টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়।
তবে এই সিদ্ধান্তে সব দেশের সমর্থন ছিল না। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। পাশাপাশি আরও ৬টি দেশ এই ভোটাভুটিতে ভোট দেয়নি।
এত দিন ধরে যে মারকেটর মানচিত্র ব্যবহার করা হতো, তাতে ভৌগোলিক আকারে ব্যাপক ত্রুটি ছিল। উদাহরণস্বরূপ, মারকেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার সমান বড় দেখানো হতো। অথচ বাস্তবে আফ্রিকা মহাদেশ গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।
নতুন এই 'ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন' মানচিত্রটি প্রথম সর্বשমক্ষে আসে ২০১৮ সালে। ওই বছর উত্তর আমেরিকান কার্টোগ্রাফিক ইনফরমেশন সোসাইটি সম্মেলনে এটি প্রথম তুলে ধরা হয়েছিল।
এই পরিবর্তনের বিষয়ে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও টোগোর সঙ্গে যুক্ত আম্মা টুম-আমোআহ একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, 'যে আফ্রিকাকে এত দিন মানচিত্রে ছোট করে দেখানো হতো, তা এখন ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক, নৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সব দিক থেকেই নিজের প্রকৃত গুরুত্ব ও আকার বিশ্বজুড়ে তুলে ধরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।'
উল্লেখ্য, গুগল ম্যাপসসহ বিভিন্ন আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও ভৌগোলিক উপস্থাপনায় বিভিন্ন সময় নানা পরিবর্তন এনেছে। তবে জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানচিত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের রূপান্তর ঘটতে যাচ্ছে।








