ইকুয়াল আর্থ ম্যাপ প্রচারে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাস
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মারকেটর প্রজেকশনের বিকল্প হিসেবে ইকুয়াল আর্থ ম্যাপ প্রমোশনের প্রস্তাব ১৬৪-১ ভোটে গৃহীত হয়েছে। টোগোর নেতৃত্বে আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আফ্রিকান গ্রুপ সমর্থন জানায়। একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গত শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যা ১৬ শতকের মারকেটর প্রজেকশনের বিকল্প হিসেবে 'ইকুয়াল আর্থ' প্রজেকশনের প্রচার করবে। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ১৬৪-১ ব্যবধানে পাস হয়। এই উদ্যোগের ফলে মানচিত্রের প্রচলিত ধারণায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রস্তাবটি মূলত আফ্রিকান গ্রুপের পক্ষে টোগো নেতৃত্ব দিয়ে উত্থাপন করেছিল। এছাড়া এই প্রস্তাবের পেছনে জোরালো সমর্থন ছিল আফ্রিকান ইউনিয়নের। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেই আফ্রিকান ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে ইকুয়াল আর্থ মানচিত্রটি গ্রহণ করেছিল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি করে।
তবে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছু দেশের ভিন্নমত ও অবস্থানও দেখা গেছে। ভোটাভুটিতে বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এর বিরুদ্ধে ভোট প্রদান করে। পাশাপাশি সার্বিয়া, এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, লিথুয়ানিয়া, মলদোভা এবং ইউক্রেন—এই ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত এই নতুন প্রস্তাবটি বাধ্যতামূলক নয়। এটি একটি নীতিগত বা প্রচারণামূলক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হবে। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ভৌগোলিক উপস্থাপনার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবের একটি বড় প্রতীকী ও বাস্তব গুরুত্ব রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এই প্রস্তাব পাসের পেছনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞদের নানামুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। মানচিত্রের এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে শিক্ষা, মানুষের কল্পনাশক্তি এবং সামগ্রিক ধারণাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আফ্রিকার বাস্তবতা এবং সঠিক ভৌগোলিক অনুপাত তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
তবে এই ধরনের বৈশ্বিক বিতর্ক ও ভোটাভুটির সমালোচনাও কম হয়নি। বিশ্ব সংস্থার কার্যকারিতা এবং বর্তমান সংকট মোকাবেলার পরিবর্তে প্রাচীন বা পুরোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে এই ধরনের বৈশ্বিক সংস্থার গ্রহণযোগ্যতা ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।








