কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষকদের গুদাম ভাঙচুর ও কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার সংকটের জেরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সার না পেয়ে রৌমারীতে কৃষকরা গুদামের সাটার ভেঙে সার নিয়ে গেছেন এবং ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার সংকটকে কেন্দ্র করে মারাত্মক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সার না পাওয়ার ক্ষোভে এবং হতাশা থেকে কৃষকরা চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই দুই উপজেলায় সারের তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে, যা পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, রৌমারী উপজেলায় কৃষকরা সার না পেয়ে সরাসরি গুদামের সাটার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তারা সেখান থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় সার নিয়ে গেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। সময়মতো সার না পেয়ে কৃষকদের এই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ ও গুদাম ভাঙচুরের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, একই জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার না পাওয়ার ঘটনায় আরও এক ধাপিয়ে উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে পর্যাপ্ত সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে গুদামে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। সার সংকটের কারণে কৃষকদের এই আকস্মিক ও কঠোর অবস্থানে প্রশাসনিক মহলে নড়চড় শুরু হয়।
এই দুই পৃথক অথচ একই প্রকৃতির ঘটনায় কুড়িগ্রামের রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ কাজ করছে। বোরো বা চলমান কৃষি মৌসুমে সারের জন্য কৃষকদের এমন হাহাকার এবং পরবর্তীতে গুদাম ভাঙচুর ও কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার মতো ঘটনা কৃষিক্ষেত্রে সার ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ত্রুটির কথাই নির্দেশ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সার সংকটের কারণে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন এবং সময়মতো সার না পাওয়ায় তাদের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এই সংকটের সরাসরি বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই রৌমারীতে গুদামের সাটার ভেঙে সার নিয়ে যাওয়া এবং ভূরুঙ্গামারীতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার মতো অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো ঘটেছে।
সারসংকটকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক ঘটনাগুলোর জেরে পুরো কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কৃষকদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং সারের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই দুই উপজেলার জনমনে এবং কৃষকদের মাঝে এখনো থমথমে ভাব বজায় রয়েছে।








