সারের তীব্র সংকট: দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ
সারসংকটের জেরে কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, লালমনিরহাট, জয়পুরহাট ও মাগুরায় কৃষকরা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং গুদাম থেকে সার লুটের ঘটনা ঘটিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দেশজুড়ে সারের তীব্র সংকটের কারণে ক্ষুব্ধ কৃষকরা বিভিন্ন জেলায় আন্দোলন শুরু করেছেন। কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, লালমনিরহাট, জয়পুরহাট ও মাগুরা জেলায় ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সারসংকট চরমে পৌঁছালে কৃষকরা সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। অনেক স্থানে সার না পেয়ে গুদাম ভাঙচুর করে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের ক্ষোভ প্রশমনে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সার বিক্রিতে দেরি হওয়ার কারণে কৃষকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। ডিলারের গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে কৃষকরা জোরপূর্বক শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। একই জেলার ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে কৃষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং একপর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে কৃষকরা প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এর ফলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পাশাপাশি লালমনিরহাটেও সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধ করার খবর পাওয়া গেছে। এসব স্থানে কৃষকরা দ্রুত সার সরবরাহের দাবি জানান এবং ডিলারদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সারের বাজারে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অনিয়মের দায়ে দুই ডিলারকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মাগুরা জেলায় অবৈধভাবে মজুত করা ৩২৮ বস্তা সার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই অবৈধ মজুতের ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সার পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আমি নিজে বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন—বলে জানিয়েছেন মাহবুবুল হাসান।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষাপটে মতিয়ার রহমান, নজরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, লিয়াকত সালমান, ওসমান আলী, এ কে এম মমিনুল হক, আসাদুল হাবিব দুলু, আব্দুল জব্বার, অমৃত দেব নাথ, আমিনুল হক তারেক, আজিম উদ্দিন, কাজী আলাউদ্দিন মণ্ডল, শহিদুল ইসলাম আকন্দ, মো. ফয়সাল আহমেদ, হারুন-উর-রশিদ, আব্দুর রহমান আকন্দ, আব্দুস সালাম, শাহিন জোয়ার্দ্দার, নবাব জোয়ার্দ্দার ও মোল্ল্যা আজাদ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এছাড়া মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজ, বিএডিসি সার ডিলার সমিতি, বাংলাদেশ এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন, মেসার্স ভাই ভাই স্টোর অ্যান্ড ট্রেডার্স ও মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে।








