ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন প্যালেস: ইতিহাস ও স্থাপত্যের আখ্যান
পুরান ঢাকার টিকাটুলীতে অবস্থিত ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন প্যালেস ১৯ শতকের শেষ ভাগে নির্মিত হয়। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এই ভবনেই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটি সংরক্ষিত ভবন হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর পুরান ঢাকার টিকাটুলীতে অবস্থিত ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন প্যালেস বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি এবং স্থাপত্যের এক অনন্য স্মারক। ১৯ শতকের শেষ ভাগে ঋষিকেশ দাস এই নান্দনিক ভবনটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন সময়ে এর আশপাশে প্রায় ২২ বিঘা জমিজুড়ে বিস্তৃত ছিল সুবিশাল বাগান, যা এই ভবনটিকে এক আলাদা সৌন্দর্য দান করেছিল।
নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় ঋষিকেশ দাসের মালিকানাধীন থাকলেও ১৯৩৬ সালের দিকে তিনি এই ঐতিহাসিক বাড়িটি ব্যবসায়ী খান বাহাদুর কাজী আবদুর রশীদের কাছে বিক্রি করে দেন। নতুন মালিকানা পাওয়ার পর এই ভবনের নামকরণ করা হয় ‘রশীদ মঞ্জিল’ নামে। পরবর্তীতে এই পরিবারের হাত ধরেই ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায় এবং নানা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রোজ গার্ডেন প্যালেসের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্য দিয়ে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এই ঐতিহাসিক ভবনেই গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, যা পরবর্তীতে বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই দল গঠনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।
রাজনীতির পাশাপাশি এই ভবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের নাম। এই প্রাঙ্গণে নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী, কাজী হুমায়ূন বশীর এবং কাজী আবদুর রকীবের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ও তৎপরতা জড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া একসময়ে এখানে বেঙ্গল স্টুডিও ও মোশন পিকচার্স লিমিটেডের কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছিল, যা এর সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছিল।
ভবনটির স্থাপত্যশৈলী ও আয়তনও বেশ উল্লেখযোগ্য। এর নিচতলার আয়তন প্রায় সাত হাজার বর্গফুট। সময়ের পালাবদলে এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ লড়াই ও পর্যটকদের যাতায়াতের নানা ধাপ পেরিয়ে, যার মধ্যে অতীতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বা ৩০ টাকার টিকিটের বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে, অবশেষে এর সঠিক মূল্যায়ন শুরু হয়।
ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে অবশেষে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে একটি সংরক্ষিত ভবন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত টিকে থাকা এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটির স্থায়িত্ব ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।








