ইরাক অভিযানে মুসলমানদের বিজয়: প্রথম খলিফার আমল
সপ্তম শতাব্দীতে প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.)-এর নির্দেশে মেসোপটেমিয়ায় মুসলিম বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ও আইয়াদ ইবনে গানামের নেতৃত্বে এই অভিযানে পারস্য সাসানীয় সাম্রাজ্য ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে একাধিক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সপ্তম শতাব্দীতে ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.)-এর ঐতিহাসিক নির্দেশে মেসোপটেমিয়া বা বর্তমান ইরাকের ওপর মুসলিম বাহিনী এক সফল অভিযান পরিচালনা করে। সে সময় এই অঞ্চলটি পারস্য সাসানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। খলিফার এই নির্দেশ মুসলিম ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে, যার মাধ্যমে অঞ্চলটিতে ইসলামের প্রভাব বিস্তার লাভ করে।
এই সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। তৎকালীন মুসলিম সেনাপতি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) এবং আইয়াদ ইবনে গানাম (রা.)-এর যৌথ নেতৃত্বে একটি দ্বিমুখী সাঁড়াশি আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। এই সাঁড়াশি আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল পারস্য সাম্রাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেঙে ফেলা এবং মুসলিম বাহিনীর অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করা।
অভিযানের শুরুর দিকেই পারস্যের বিরুদ্ধে এক নির্ণায়ক যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ইতিহাসে 'জাতুস সালাসিল' বা শেকলের যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই ভয়াবহ সংঘর্ষে পারসিক সেনাপতি হরমুজ মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে পরাজিত ও নিহত হন। এই বিজয়ের ফলে শত্রু বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায় এবং মুসলিমরা মেসোপটেমিয়ার ভেতরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে।
এই অভিযানে মুসলিম বাহিনীর পক্ষে আরও বিশিষ্ট সাহাবি ও বীরযোদ্ধারা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে আল-মুসান্না বিন হারিসা আশ-শায়বানি (রা.) এবং আল-কা’কা ইবনে আমর আত-তামিমি (রা.) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া আল-হিরা ও আল-ফিরাদ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বনু শাইবান গোত্র এবং পূর্ব রোমান বা বাইজেন্টাইন সেনাদলও এই সংঘাতে জড়িত ছিল।
আল-হিরা বিজয়ের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে এক শান্তিপূর্ণ সমঝোতা হয়। হিরার বাসিন্দারা মুসলিম প্রশাসনকে জিজিয়া কর দিতে সম্মত হন। এর বিনিময়ে মুসলিম কতৃপক্ষ তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করে, যা বিজিত অঞ্চলের মানুষের প্রতি সুবিচারের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
পরবর্তীতে ফিরাদের প্রান্তরে রোমান ও পারস্যের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মুসলিমদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ প্রসঙ্গে বীর যোদ্ধা আল-কা’কা ইবনে আমর তামিমি বলেন, "ফিরাদের প্রান্তরে আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম রোম ও পারস্যের বিশাল বাহিনীর... কিন্তু সংঘাত শুরু হতেই আমরা তাদের ছিন্নভিন্ন করে দিলাম, শেষ পর্যন্ত তারা খোলা প্রান্তরে মেষপালের মতো অসহায় হয়ে পড়েছিল।"
সবমিলিয়ে সপ্তম শতাব্দীতে প্রথম খলিফার আমলে পরিচালিত এই ইরাক অভিযান মুসলিম সাম্রাজ্যের পরিধি প্রসারে এবং তৎকালীন পরাশক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কৌশলগত বিজয়ে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। নিখুঁত পরিকল্পনা এবং সাহাবিদের বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।








