মূল কনটেন্টে যান
ব্রেকিং
BDRevise24 — Trusted & Targeted News

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — HEADER

ধ্বংসের মুখে পুরনো ঢাকার ঐতিহাসিক রূপলাল হাউসের ঐতিহ্য

পুরাকালে জমজমাট থাকা ঢাকার ফরাশগঞ্জের ঐতিহাসিক রূপলাল হাউস আজ বেহাল ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকায় থাকা এই ভবনটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তার হারানো গৌরব হারাচ্ছে।

বিডিরিভাইস২৪ ডেস্ক

প্রকাশ: · মিনিট পড়া

ধ্বংসের মুখে পুরনো ঢাকার ঐতিহাসিক রূপলাল হাউসের ঐতিহ্য
ছবি: প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — ARTICLE_TOP

রাজধানীর পুরনো ঢাকার ফরাশগঞ্জের শ্যামবাজারে অবস্থিত ঐতিহাসিক রূপলাল হাউস একসময়ের জমজমাট আভিজাত্যের প্রতীক হলেও আজ তা চরম অবহেলা ও জরাজীর্ণ অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। অথচ এই ভবনের প্রতিটি ইটের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে পুরনো ঢাকার বর্ণাঢ্য ইতিহাস এবং বহু স্মৃতিময় ঘটনা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮২৫ সালের দিকে আর্মেনীয় জমিদার আরাতুন ঢাকার ফরাশগঞ্জের শ্যামপুরে বুড়িগঙ্গার তীরে এই দ্বিতল বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। এর ১০ বছর পর ১৮৩৫ সালের দিকে তৎকালীন বিত্তশালী ব্যবসায়ী রূপলাল দাস ও তাঁর ভাই রঘুনাথ দাস বাড়িটি কিনে নেন। পরবর্তী সময়ে কলকাতার বিখ্যাত ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি মার্টিন অ্যান্ড কোং ভবনটি পুনর্নির্মাণ করে একে এক নজরকাড়া ও নান্দনিক রূপ দেয়।

পুনর্নির্মাণের পর রূপলাল হাউসের বিশালতা ও সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ে। প্রায় ৯১.৪৪ মিটার দীর্ঘ এই ঐতিহাসিক ভবনে ৫০টিরও বেশি কক্ষ রয়েছে। এর স্থাপত্যশৈলী এবং রাজকীয় নকশা সেকালের ঢাকা শহরের আভিজাত্যকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল। তৎকালীন সময়ে এই ভবনের জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

ভবনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি। ১৮৮৮ সালে ভারতের ভাইসরয় লর্ড ডাফরিন ঢাকা সফরে এসেছিলেন এবং তাঁর সম্মানে রূপলাল হাউসে একটি বর্ণাঢ্য নাচের আসর ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে এই ভবনে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ওস্তাদ ওয়ালীউল্লাহ খাঁ, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অনেক গুণী ব্যক্তিত্বের পদচারণা ঘটেছিল, যা এর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কালের পরিক্রমায় এবং নানা হাতবদলের ইতিহাসও রয়েছে এই রূপলাল হাউসের পেছনে। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে ভবনের চূড়ার ঘড়িটি ভেঙে পড়েছিল। এরপর ১৯৫৮ সালে মোহাম্মদ সিদ্দিক জামাল বাড়িটি কিনে নেন এবং এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন জামাল হাউস। এমনকি একসময় দুই দিন দুই শ টাকায় এই ভবনটি ভাড়া দেওয়া হতো এবং এর পেছনে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হতো বলে জানা যায়।

বর্তমানে ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যগত নিদর্শনের অংশ হিসেবে এই ভবনটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের অযত্ন, অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি এখন চরম ধ্বংসের মুখে। স্থানীয় বাসিন্দা নুসরাত জাহান অর্পিতাসহ ইতিহাসপ্রেমী মানুষের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে রূপলাল হাউসকে রক্ষা করা না হলে পুরনো ঢাকার একটি অমূল্য ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — IN_ARTICLE

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

সব দেখুন
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে সংযোগ সড়কহীন সেতু ২৮ বছর ধরে অকার্যকর
বাংলাদেশ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে সংযোগ সড়কহীন সেতু ২৮ বছর ধরে অকার্যকর

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল গ্রামে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে নির্মিত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ একটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে ২৮ বছর ধরে কোনো কাজেই আসছে না। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

১ মিনিট পড়া
সুনামগঞ্জে যাদুকাটা নদীর সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা
বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জে যাদুকাটা নদীর সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর ওপর শাহ আরেফিন-অদ্বৈত প্রভু মৈত্রী সেতু নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। আট বছর পেরিয়ে গেলেও এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

১ মিনিট পড়া
১৫ বছর পর ভারত থেকে নিজ পরিবারে ফিরছেন বাংলাদেশি নারী আনজু
বাংলাদেশ

১৫ বছর পর ভারত থেকে নিজ পরিবারে ফিরছেন বাংলাদেশি নারী আনজু

দীর্ঘ ১৫ বছর পর আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বেনাপোল আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিজের পরিবারে ফিরে আসছেন আনজু। মানসিক অসুস্থতার কারণে নিখোঁজ হয়ে তিনি ভারতে চলে গিয়েছিলেন এবং কলকাতার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন।

১ মিনিট পড়া
উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর নির্দেশ
বাংলাদেশ

উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর নির্দেশ

দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপন এবং নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে — FOOTER