সিপাহি বিদ্রোহের স্মৃতিচিহ্ন আজিমপুরের গোর-এ শহীদ মাজারের ইতিহাস
সিপাহি বিদ্রোহের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত ঢাকার আজিমপুর রোডের গোর-এ শহীদ মাজারের দীর্ঘ ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন গবেষক ও সংশ্লিষ্টরা। ১৮৫৭ সালের সেই উত্তাল সময়ে ঢাকার পরিস্থিতি এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন নামকরণের পরিবর্তনের ইতিহাস উঠে এসেছে তথ্যে।
প্রকাশ: · আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:১৬· ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর আজিমপুর রোডে অবস্থিত ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ মাজারটি সিপাহি বিদ্রোহের এক নীরব স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে পরিচিত। বর্তমান লালবাগ কেল্লার উত্তর-পশ্চিমে এবং স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার পাশেই এই পবিত্র মাজারটি অবস্থিত। ইতিহাসের নানা পালাবদল ও ঘটনার সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে এই স্থানটি।
এই মাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকার ইতিহাস নিয়ে নানা তথ্য উঠে এসেছে। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন নাজির হোসেন। সিপাহি বিদ্রোহের সময়ের পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি উল্লেখ করেন, ১৮৫৭ সালে যখন সারা ভারতবর্ষে সিপাহি বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে; তখন ঢাকার বাতাস উত্তপ্ত হলেও বিদ্রোহ দেখা দেয়নি।
তৎকালীন সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক জটিলতার কথা উল্লেখ করে নাজির হোসেন আরও জানান, এক দল হিন্দু সরকারী কর্মচারীদের উস্কানী, গুজব, বানোয়াট কাহিনী দ্বারা ঢাকার মানুষকে বিদ্রোহের মন্ত্র থেকে দ্বিধা বিভক্ত করে সিপাহীদের বিরুদ্ধে ঢাকার লোকজনকে বিষিয়ে তুলেছিল। এসব কাজে বড় বড় রইশ, জমিদার বিশেষ করে ঢাকার নবাব আব্দুল গণী ও বাবু রূপলাল দাস ইংরেজদের সর্বোতভাবে বিদ্রোহ দমনে সহায়তা করেছিলেন।
কালের পরিক্রমায় এই এলাকার নাম ও পরিচয়েও এসেছে পরিবর্তন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪২-৪৩ সালে ঢাকা পৌরসভা গোরে-শহীদ মহল্লার নাম পরিবর্তন করে 'বিষ্ণুচরণ দাস স্ট্রিট' রাখে। ঐতিহাসিক এই স্থানটির নামকরণের পরিবর্তন এবং সিপাহি বিদ্রোহের সময়ের নানা ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই অঞ্চলের অতীত।
এই ঐতিহাসিক স্থানটির সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে যুক্ত ছিলেন বা এর ইতিহাস নিয়ে কাজ করেছেন মুহাম্মাদ রাহাতুল ইসলাম, মি. লেং কিন, সোনা মিয়া এবং আলহাজ খান সাহেব চৌধুরী ফরিদউদ্দিন আহমদ সিদ্দিকী। তাদের সবার সংশ্লিষ্টতা ও তথ্যের মাধ্যমেই এই এলাকার অতীত ইতিহাস ও সিপাহি বিদ্রোহের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত হয়ে আসছে।
বর্তমানে লালবাগ কেল্লার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই মাজারটি এবং এর পার্শ্ববর্তী স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার এলাক1টি পুরনো ঢাকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে চলেছে। সিপাহি বিদ্রোহের সেই রক্তক্ষয়ী ও উত্তাল অধ্যায়ের অবশিষ্টাংশ হিসেবে গোর-এ শহীদ মাজারটি আজও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।








