বাংলাদেশে পালিত হলো সিভিল সার্ভিস ডে এবং ঐতিহাসিক আলোচনা
বাংলাদেশে ১ সেপ্টেম্বর সিভিল সার্ভিস ডে পালিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইতিহাস এবং ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কারের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে ১ সেপ্টেম্বর দিনটি 'সিভিল সার্ভিস ডে' বা সিভিল সার্ভিস দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণের অংশ হিসেবে এই দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছ থেকে ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর একটি ট্রেডিং চার্টার বা বাণিজ্য সনদ লাভ করেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। পরবর্তীতে ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে প্রশাসনিক ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে শুরু করে তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৭৭২ সালে রাজস্ব প্রশাসন পুনর্গঠন করেছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। তার এই পদক্ষেপের মাধ্যমেই মূলত উপমহাদেশে আধুনিক ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠامোর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে দীর্ঘকাল ধরে পরিচালিত হয়।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে গঠিত হয়েছিল প্রশাসনিক ও সার্ভিস পুনর্গঠন কমিটি বা এএসআরসি (ASRC)। যুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে দেশে পে কমিশন ও জাতীয় বেতন কমিশন গঠিত হয়। এর মধ্যে জাতীয় বেতন কমিশনের মাধ্যমে বেতনের স্কেল প্রায় ২,২০০ থেকে কমিয়ে ১০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছিল, যা দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন ছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিসের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে দেশে বিসিএস ক্যাডারের সংখ্যা রয়েছে ২৬টি, যারা দেশের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।








