এলজেড ডিটেক্টরে ডার্ক ম্যাটারের সম্ভাব্য অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটার মাটির নিচে অবস্থিত লাক্স-জেপেলিন বা এলজেড ডিটেক্টরে একটি অস্বাভাবিক সংকেত পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, এই সংকেত ডার্ক ম্যাটার কণা বা উইম্পসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:১৭· ১ মিনিট পড়া

মহাবিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ পদার্থই এমন এক রহস্যময় পদার্থ দিয়ে তৈরি, যা সাধারণ আলোর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে না। বৈজ্ঞানিক মহলে এই রহস্যময় পদার্থটি ডার্ক ম্যাটার বা গুপ্তবস্তু হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এই ডার্ক ম্যাটার বা গুপ্তবস্তু সম্পর্কিত গবেষণায় একটি নতুন মোড় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটার মাটির প্রায় দেড় কিলোমিটার বা ৪ হাজার ৮৫০ ফুট নিচে একটি পুরোনো স্বর্ণের খনির ভেতর স্থাপন করা হয়েছে লাক্স-জেপেলিন বা এলজেড ডিটেক্টর। এই ভূগর্ভস্থ গবেষণাগারটি পরিচালনা করছে সানফোর্ড আন্ডারগ্রাউন্ড রিসার্চ ফেসিলিটি।
এই বিশেষ ডিটেক্টরের মূল অংশে একটি ট্যাংকে তরল জেনন রাখা হয়েছে, যা ডার্ক ম্যাটার শনাক্তের প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ডিটেক্টরেই সম্প্রতি একটি অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন মাধ্যম যেমন সায়েন্স ডেইলি ডটকম এবং সাইটেক ডেইলি সূত্রে জানা গেছে, এই সংকেতটি সম্ভাব্যভাবে ডার্ক ম্যাটার কণা বা উইম্পসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পর্যালোচনার পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এলজেডের আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকেই এই ডিটেক্টরের মাধ্যমে মহাবিশ্বের এই অদৃশ্য উপাদানের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকেরা।
সাম্প্রতিক এই আবিষ্কার বা সংকেত শনাক্তকরণের বিষয়টি ২০২৩ সালের ১৬ জুন প্রকাশ পায়। এই গবেষণার সঙ্গে নাসা, প্রথম আলো এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যও যুক্ত রয়েছে।
বিশেষ এই গবেষণার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা অনুযায়ী, এই কণাগুলোর ভর প্রোটনের ভরের অন্তত ২০০ গুণ হতে পারে, যা ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে।








