উত্তর সাইপ্রাসে আইভিএফ চিকিৎসায় ভুল ডোনার ব্যবহারের শঙ্কা
উত্তর সাইপ্রাসের একটি ক্লিনিকে আইভিএফ চিকিৎসার মাধ্যমে ভুল স্পার্ম বা ডিম্বাণু ব্যবহার করে অন্তত ৩০টি শিশু জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে অর্ধেক শিশু জন্ম নিয়েছে দোঘুস আইভিএফ সেন্টারে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

উত্তর সাইপ্রাসের আইভিএফ চিকিৎসায় বড় ধরনের এক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। ভুল স্পার্ম বা ডিম্বাণু ব্যবহারের মাধ্যমে সেখানে অন্তত ৩০টি শিশু জন্ম নিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই শিশুগুলোর বেশিরভাগই ব্রিটিশ নাগরিক বলে জানা গেছে। বিবিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি চিকিৎসাক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ৩০টি শিশুর মধ্যে অর্ধেক শিশুর জন্ম হয়েছে কেবল একটিমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে, যার নাম দোঘুস আইভিএফ সেন্টার। এই সেন্টারের কার্যপদ্ধতি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে ড. শেভকেত আল্পতুর্ক এবং ড. ফিরদেভস উগুজ টিপ-এর নামও সংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে।
ভুল ডোনার ব্যবহারের এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাচেল নামের এক নারী এই অবস্থাকে অত্যন্ত কেলেঙ্কারি হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি আরও বলেন, আমি আগে ভেবেছিলাম ক্লিনিকটি হয়তো একটি বিচ্ছিন্ন ভুল করেছিল, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটি আরও অনেক বড় এবং প্রতারণাপূর্ণ কিছু।
রাচেল নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে আরও জানান, তিনি চেয়েছিলেন তার যেকোনো সন্তানের যেন ডোনারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকে। তিনি বলেন, দুনিয়ায় নিজের পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করা একটি শিশুর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি আইভিএফ প্রক্রিয়ার জন্য ৪,০০০ ইউরো খরচ করেছিলেন বলেও জানা গেছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লরা ব্রিডজেন্স। তিনি মন্তব্য করেন যে, এই প্রতিবেদনগুলো গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন ডোনার-কনসিভড বা দাতার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া ব্যক্তির নিজের শেকড় সম্পর্কে সত্য জানার মৌলিক মানবাধিকার রয়েছে। ডোনর কনসিভড ইউকে এবং জুলি হডসন এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই ৩০টি শিশুর মধ্যে ১১টি শিশু বাণিজ্যিক ডিএনএ টেস্ট বা পরীক্ষা করিয়েছে। এসব পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে যে, শিশুগুলো তুরস্ক বা আশপাশের দেশগুলো থেকে জিনগত উত্তরাধিকার লাভ করেছে, যা তাদের প্রকৃত ডোনারের পরিচিতির সঙ্গে মেলে না।
এদিকে ক্রায়োস ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা ২০১৬ সাল থেকেই দোঘুস ক্লিনিককে ব্ল্যাকলিস্ট বা কালোতালিকাভুক্ত করে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, দোঘুস ক্লিনিকে কখনো স্পার্ম সরবরাহের কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই। উত্তর সাইপ্রাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।








