অন্তরের পরিশুদ্ধি ও আত্মশুদ্ধির উপায় সম্পর্কিত ইসলামি আলোচনা
ইসলাম ধর্মে মানবদেহের সুস্থতা ও কর্মের চালিকাশক্তি হিসেবে অন্তরের পরিশুদ্ধিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে অন্তরকে বিভিন্ন আত্মিক ব্যাধি থেকে মুক্ত করার উপায় ও মাধ্যম আলোচিত হয়েছে এই আয়োজনে।
প্রকাশ: · আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:১২· ১ মিনিট পড়া

ইসলাম ধর্মে মানবদেহের সুস্থতা ও কর্মের চালিকাশক্তি হিসেবে অন্তরের পরিশুদ্ধিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে অন্তরকে বিভিন্ন আত্মিক ব্যাধি থেকে মুক্ত করার সাতটি উপায় বা মাধ্যমের কথা আলোচিত হয়েছে। মানুষের শারীরিক সুস্থতা ও সামগ্রিক জীবনযাপনে অন্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গভীর। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, জেনে রেখো, শরীরের ভেতরে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে, তা যদি সুস্থ ও সংশোধিত থাকে, তবে সমগ্র দেহই সুস্থ থাকে; আর তা নষ্ট হয়ে গেলে পুরো দেহই বিনষ্ট হয়ে যায়। শুনে রাখো, সেটিই হলো অন্তর।
অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো পবিত্র কোরআনের উপদেশ গ্রহণ করা। আল্লাহ–তাআলা সুরা ইউনুসের ৫৭ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন, হে মানবজাতি, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরের যাবতীয় ব্যাধির আরোগ্য, আর মুমিনদের জন্য হিদায়েত ও রহমত। এ ছাড়া পবিত্র কোরআনের সুরা আনফালের ২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, প্রকৃত মুমিন তো তারাই, যাদের সামনে আল্লাহর স্মরণ করা হলে তাদের হৃদয় কম্পিত হয় এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, তখন তা তাদের ইমান বৃদ্ধি করে।
অন্তরকে আল্লাহর পথে অবিচল রাখতে দোয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন, যা হলো—আল্লাহুম্মা মুসাররিফাল কুলুব, সাররিফ কুলুবানা আলা তাআতিক। অন্তরের প্রশান্তি ও সংশোধনের জন্য পার্থিব জীবনের অবিনশ্বর বাস্তবতাকে স্মরণ করা জরুরি। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা পার্থিব জীবনের সব স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো। মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে আত্মিক দিক থেকে সচেতন ও সংযত করে তোলে।
মৃত্যু ও পরকাল স্মরণের আরেকটি কার্যকর মাধ্যম হলো কবর জিয়ারত করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, আমি পূর্বে তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম; এখন তোমরা কবর জিয়ারত করো। কেননা, তা অন্তরকে কোমল করে, চোখে অশ্রু আনে এবং পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি আল্লাহর জিকির বা স্মরণ অন্তরকে প্রশান্ত করে তোলে। কোরআনের সুরা রাদের ২৮ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, জেনে রেখো, শুধু আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই অন্তরসমূহ পরম প্রশান্তি লাভ করে।
আল্লাহর জিকিরের গুরুত্ব বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি চমৎকার উপমা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের জিকির করে এবং যে জিকির করে না, তাদের উপমা হলো জীবিত ও মৃতের মতো। জিকিরের মাধ্যমে অন্তর জীবন্ত ও সজীব থাকে। আর কোনো কারণে পাপ বা ত্রুটি হয়ে গেলে তওবা করার মাধ্যমে তা পরিশুদ্ধ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পাপ থেকে খাঁটিভাবে তওবাকারী ব্যক্তি এমন নিষ্পাপ হয়ে যায়, যেন তার কোনো পাপই ছিল না।
সৎসঙ্গ ও ভালো মানুষের সান্নিধ্য অন্তর গঠনে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে সতর্ক করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ধর্ম ও স্বভাবের ওপর গড়ে ওঠে। অতএব, তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ করে সে কাকে নিজের অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করছে। ভালো বন্ধু মানুষের চরিত্র ও অন্তরকে আলোর পথে পরিচালিত করে, আর মন্দ সঙ্গ অন্তরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
দৃষ্টি সংযত রাখা এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করাও অন্তরের পবিত্রতা রক্ষার অন্যতম শর্ত। আল্লাহ–তাআলা সুরা নুরের ৩০ নম্বর আয়াতে মুমিন পুরুষদের উদ্দেশে বলেছেন, মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে। এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র পদ্ধতি। এই সামগ্রিক নির্দেশিকাগুলো মেনে চলার মাধ্যমেই একজন মানুষ তার অন্তরকে পরিশুদ্ধ ও আত্মশুদ্ধ করতে পারে।








