শুভ জন্মাষ্টমী: ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি
আজ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি শুভ জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে কারাগারে বন্দী দেবকী ও বসুদেবের কোলে তাঁর জন্ম হয়েছিল। সনাতন ধর্মে এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত হিসেবে উদযাপিত হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি বা শুভ জন্মাষ্টমী। পুরাণ ও শাস্ত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালনের মাধ্যমে পৃথিবীতে ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্যই তাঁর এই ধরাধামে আগমন ঘটেছিল।
পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণ কারাগারে বন্দী দেবকী ও বসুদেবের কোলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের পৈশাচিক শাসন ও নিপীড়নের হাত থেকে বিশ্ববাসীকে মুক্ত করতে এবং দেবকী-বসুদেবকে কারাগারের অন্ধকার থেকে মুক্তি দিতেই মহাশক্তিধর এই অবতারের জন্ম হয়েছিল।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অনুযায়ী, ধর্ম ও কর্মের শাশ্বত বাণী প্রচারের সময় শ্রীভগবান অর্জুনকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন শ্লোকের মাধ্যমে তাঁর দিব্য স্বরূপ ও আবির্ভাবের প্রকৃত রহস্য তুলে ধরেছেন। শ্রীভগবান বলেছেন, 'অজেহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানীমীম্বরোহপি সন্।/ প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া。。'
পৃথিবীতে যখনই অধর্মের বাড়বাড়ন্ত ঘটে এবং ধর্মের গ্লানি উপস্থিত হয়, তখনই পরমেশ্বর ভগবান অবতীর্ণ হন। এই বিষয়ে শ্রীভগবান আরও বলেছেন, 'যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।/ অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজামহ্যম্。。'
ভক্ত ও সাধু ব্যক্তিগেদের রক্ষা করা এবং দুষ্ট প্রকৃতির অসুরদের বিনাশ করার মাধ্যমেই ধর্মের সঠিক সংস্থাপনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রীভগবান বলেছেন, 'পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।/ ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে。。'
শ্রীকৃষ্ণের এই ধরাধামে আগমন এবং তাঁর মুখনিঃসৃত বাণী মানবজাতির জন্য চিরকালীন পথপ্রদর্শক। তাঁর জন্ম ও কর্মের এই দিব্য তত্ত্ব যিনি প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করতে পারেন, তাঁকে আর চক্রব্যূহে পড়তে হয় না। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন, 'জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বতঃ।/ ত্যক্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোহর্জুন。。'
ইতিহাসে কংস ছাড়াও শিশুপাল ও জরাসন্ধের মতো বহু অত্যাচারী ও দুরাচারী শাসকের পতন ঘটিয়ে শ্রীকৃষ্ণ মথুরাসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর সেই আদর্শ ও শাশ্বত বাণী আজও বিশ্বজুড়ে মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথে চালিত করে।








