শব্দতরঙ্গে চালিত মাইক্রো-রোবট আবিষ্কার ইপিএফএল বিজ্ঞানীদের
সুইজারল্যান্ডের ইপিএফএল প্রকৌশলীরা শব্দতরঙ্গ ও হেলমহোল্টজ রেজোন্যান্স ব্যবহার করে মোটরবিহীন মাইক্রো-রোবট উদ্ভাবন করেছেন। ১২ আগস্ট ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি লুজান বা ইপিএফএল-এর প্রকৌশলীরা সম্পূর্ণ নতুন এক প্রযুক্তির মাইক্রো-রোবট উদ্ভাবন করেছেন। এই রোবটগুলো পরিচালনার জন্য কোনো ধরনের প্রচলিত মোটর বা ইঞ্জিনের প্রয়োজন হয় না। নতুন এই প্রযুক্তিটি মূলত শব্দতরঙ্গের সাহায্যে চালিত হয়।
গবেষণাটিতে শব্দচালিত এই প্রযুক্তির পেছনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে হেলমহোল্টজ রেজোন্যান্স। জার্মান পদার্থবিদ হারমান ফন হেলমহোল্টজ ১৮৫৬ সালে এই হেলমহোল্টজ রেজোন্যান্স আবিষ্কার করেছিলেন। এই প্রাচীন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বটিকে কাজে লাগিয়েই বর্তমান যুগের এই আধুনিক মাইক্রো-রোবট তৈরি করা হয়েছে।
নতুন এই রোবটগুলোর মূল কাঠামো তৈরি করা হয়েছে টু-ফোটন থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির সাহায্যে। এর মাধ্যমে ফাঁকা বা হলো কাঠামো তৈরি করা হয়, যা শব্দতরঙ্গের সাহায্যে কাজ করতে সক্ষম। এই ক্ষুদ্র ডিভাইসটির আকার মাত্র ১ মিলিমিটার বা ০.০৪ ইঞ্চি।
অপরদিকে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে চালিত ছোট নৌকাটির আকার ৫ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি। এই ক্ষুদ্র ডিভাইস ও ছোট নৌকার পারস্পরিক কার্যকারিতার মাধ্যমেই শব্দচালিত মাইক্রো-রোবট প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়েছে।
এই নতুন প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন গবেষক সেলমান সাকার। তিনি এই উদ্ভাবনের একটি বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, প্রচলিত বিদ্যুৎ ও মোটর ব্যবস্থার তুলনায় এই নতুন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর আকার।
এই যুগান্তকারী গবেষণাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ১২ আগস্ট তারিখে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। এর মধ্য দিয়ে মাইক্রো-রোবটিক্স ও শব্দচালিত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।








