মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহ শুরু, দেশজুড়ে লোডশেডিং অব্যাহত
মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে তিন দিন পর পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ক্ষতি হয়েছিল, যা তিন দিন বন্ধ থাকার পর এই সরবরাহ চালুর মাধ্যমে স্বাভাবিক হওয়ার পথে রয়েছে।
পেট্রোবাংলা, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ডেসকো, সামিট, আদানি, নরিংকো, পায়রা ও মাতারবাড়ী সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছিল ২৩১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে ১৬২ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট গ্যাস এসেছে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে এবং ৬৮ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে রিগ্যাসified এলএনজি থেকে।
বর্তমানে দেশে গ্যাসের মোট দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে শনিবার সন্ধ্যায় প্রায় ১৬৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি দেখা দেয়। এর আগে গত ২১ জুলাইয়ের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পেয়েছিল। তবে শনিবার দুপুরের পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।
শনিবার গ্যাস সরবরাহের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, বিদ্যুৎ খাতে মোট ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে এবং সার কারখানায় সরবরাহ করা হয়েছে ২১ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিং চলমান রয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের সংশ্লিষ্টতায় জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। বিপরীতে ওই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। এছাড়া শুক্রবার রাত ১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৯৫৫ মেগাওয়াট এবং রাত ১২টায় তা ছিল ১ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট।
রাজধানী ও এর আশেপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণেও ঘাটতির প্রভাব পড়েছে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। অন্যদিকে ডেসকোর চাহিদা ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং তাদের ঘাটতি ছিল প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট।
মহেশখালীর টার্মিনাল চালুর ফলে ধীরে ধীরে গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হলেও বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি দূর হতে আরও সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে।








