নতুন এলএনজি কার্গো এলেও গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটছে না
নতুন এলএনজি কার্গো এসে মহেশখালীর টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শুরু হলেও দেশের গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটছে না। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ অনেক কম রয়েছে এবং গত এক মাস ধরে সরবরাহ সক্ষমতার অর্ধেক রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

দেশের জ্বালানি খাতে চলমান সংকট কাটানোর জন্য একটি নতুন এলএনজি কার্গো মহেশখালীতে এসে পৌঁছেছে এবং পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কার্গো আসার পরও দেশজুড়ে গ্যাসের সংকট পুরোপুরি দূর হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হলো দেশে গ্যাসের যে বিশাল চাহিদা রয়েছে, তার তুলনায় সরবরাহ এখনো বেশ সীমিত। পেট্রোবাংলা, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল), এক্সিলারেট এনার্জি এবং সামিট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গ্যাসের মোট চাহিদা রয়েছে দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গ্যাসের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, যা শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গৃহস্থালিতে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করছে। মোট সরবরাহের একটি বড় অংশ আসে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে, যেখান থেকে নিয়মিতভাবে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস।
তবে গত এক মাস ধরে এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতি বেশ নাজুক ছিল এবং তা গড়ে টার্মিনালের নিজেদের সক্ষমতার অর্ধেকের মতো রয়েছে। এই সংকটের পেছনে মূল কারণ ছিল গত ২১ জুলাই ঘটে যাওয়া একটি অগ্নিদুর্ঘটনা। ওই দুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ মেরামত ও প্রস্তুতি শেষে গত ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুনরায় এলএনজি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা হয় এবং অবশেষে শনিবার দুপুর থেকে এক্সিলারেট এনার্জির এই টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।
নতুন কার্গো আসার সুফল হিসেবে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মহেশখালী টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ ছিল ৫৮ কোটি ঘনফুট। এরপর বিকেলে এলএনজি সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮ কোটি ঘনফুটে। এই বৃদ্ধির ফলে সব মিলিয়ে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৩০ কোটি ঘনফুটে।
পরিস্থিতি আরও কিছুটা উন্নতির আশা করা হচ্ছে রাতের দিকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাতে যদি এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ৭৫ কোটি ঘনফুটে ওঠে, তবে সে ক্ষেত্রে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৩৭ কোটি ঘনফুট হতে পারে। তা সত্ত্বেও এটি সামগ্রিক চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়, যার ফলে গ্যাস সংকট পুরোপুরি নিরসন হচ্ছে না।
চলতি মাসের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর অংশ হিসেবে দরপত্রের মাধ্যমে মোট দুটি এলএনজি কার্গো পাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম এলএনজি কার্গোটি শনিবার এসে পৌঁছেছে এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় কার্গোটি আগামী ২৬ অথবা ২৭ আগস্ট মহেশখালীতে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দ্বিতীয় কার্গোটি আসার পর সরবরাহ পরিস্থিতিতে আরও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।








