ময়মনসিংহে গ্যাস-সংকটে ২০ কারখানার শ্রমিকদের ছুটি ও উৎপাদন ব্যাহত
ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের সময় ছুটি দেওয়া হয়েছে। গ্যাসস্বল্পতায় প্রধান কারখানাগুলোর উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং অনেক মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের সময় ছুটি দেওয়া হয়েছে। ২০ আগস্ট এই সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই গ্যাস-সংকটের ফলে ময়মনসিংহ, ভালুকা ও গৌরীপুর অঞ্চলের টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলগুলোতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
শিল্প পুলিশ-৫-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কারখানা গ্যাসচালিত বা গ্যাসনির্ভর। পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহের অভাবে এই গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গ্যাস-সংকটের কারণে শিল্পাঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষকে বাধ্য হয়ে মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টি বন্ধ রাখতে হয়েছে। একইভাবে ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসের ৩০টি মেশিন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমেছে। এছাড়া এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে ৪০ শতাংশ মেশিন বন্ধ বা অচল রয়েছে।
অন্যান্য কারখানার অবস্থাও একই রকম। গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের মহাব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ জানান, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম। কারখানাটিতে গ্যাসের চাপ ১৫ পিএসআই প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এর ফলে তাদের উৎপাদন ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমেছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভালুকার সহকারী প্রকৌশলী শামীম হোসেন জানান, ভালুকা এলাকায় ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে বর্তমানে তাঁরা ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস পাচ্ছেন। গ্যাসের এই স্বল্প চাপের কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
উৎপাদন কমে যাওয়ায় কারখানার শ্রমিকদের কাজের ধরনও বদলে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বা অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের মধ্যে হাফিজা আক্তার বলেন, গ্যাস-সংকটের কারণে কাজ অনেক কমে গেছে এবং সব মেশিন একসঙ্গে চলছে না। উৎপাদন কমে যাওয়া এবং গ্যাস না থাকার কারণে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের সময় ছুটি দেওয়া হয়েছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে কর্মরত উদ্যোক্তা ও শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই অঞ্চলের টেক্সটাইল, স্পিনিং ও অন্যান্য গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলো আরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








