ময়মনসিংহে গ্যাস-সংকটে ২০ কারখানার শ্রমিকদের ছুটি ও উৎপাদন ব্যাহত
ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২০ আগস্ট এই সংকট দেখা দেয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০ আগস্ট এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে, যার ফলে স্থানীয় শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রাপ্ত তথy অনুযায়ী, ময়মনসিংহের এই শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ৯৯টি সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর। গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এসব কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
শিল্প পুলিশ-৫ এর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। কারখানাগুলো সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু থাকে। তবে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দুপুরের খাবারের সময়ে মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল এবং বিএসপি স্পিনিং মিলসহ মোট ২০টি প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটি দিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
শিল্প পুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন এ বিষয়ে জানান, সকাল থেকেই গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এলেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় ২০টি কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছুটি দিয়ে দিতে হয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতেও উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিক হাফািজা আক্তার জানিয়েছেন, গ্যাস-সংকটের কারণে কাজ অনেক কমে গেছে এবং সব মেশিন একসঙ্গে চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে এই সংকটের বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এই কারখানার ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৭টি মেশিন পিডিবির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিকল্প উপায়ে চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসের ৩০টি মেশিন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং এই কারখানার উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এছাড়া এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল কারখানার ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে।
কারখানা মালিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সংকটের ধরণ কারখানভেদে ভিন্ন। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলের প্রতিনিধি সোহেল আহাম্মেদ জানিয়েছেন, গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম রয়েছে। কারখানায় গ্যাসের ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও বাস্তবে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এর ফলে তাদের কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমে গেছে।
অন্যদিকে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক শামীম হোসেন গ্যাস সংকটের নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ভালুকা এলাকার জন্য ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে তারা সরবরাহ পাচ্ছেন মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস। সার্বিক সরবরাহ কম পাওয়ার কারণেই মূলত গ্যাসের এই মারাত্মক চাপ কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ময়মনসিংহের এই শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল, ডেল্টা স্পিনার্স ও এক্সিলেন্ট সিরামিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোও এই গ্যাস সংকটের প্রভাবের বাইরে নয়। শ্রমিক নেতা সৈয়দ আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা দ্রুত এই গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।








