মহানবী (সা.)-এর জীবন: বিধান ও দুনিয়াবি বিষয়ের শিক্ষা
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কাজ মূলত তাশরিয়িয়াত বা বিধিবিধান এবং তাকবিনিয়াত বা প্রাকৃতিক ও দুনিয়াবি—এই দুই ভাগে বিভক্ত। ইসলামে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:২৪· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আলোচনায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামি জীবনব্যবস্থায় ধর্মীয় বিধান এবং পার্থিব বা প্রাকৃতিক বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী মানবজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় জানানো হয় যে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও কাজ মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত। এর একটি হলো তাশরিয়িয়াত বা ধর্মীয় বিধিবিধান এবং অন্যটি হলো তাকবিনিয়াত বা প্রাকৃতিক ও দুনিয়াবি বিষয়াদি। এই দুই ভাগের পার্থক্যের মধ্য দিয়ে ইসলামি শরিয়তের পরিধি ও বিজ্ঞানমনস্কতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
দুনিয়াবি ও প্রাকৃতিক বিষয়ের ক্ষেত্রে নবীজির একটি বিখ্যাত বাণীর কথা উল্লেখ করা হয়। খেজুরগাছের কৃত্রিম পরাগায়নের বিষয়ে সাহাবিদের উদ্দেশে নবীজি (সা.) বলেছিলেন, 'তোমরা তোমাদের মতো খেজুরগাছের কৃত্রিম পরাগায়ন করো, কারণ দুনিয়াবি বিষয়ে তোমরা আমার চেয়ে ভালো জানো।' এই বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলামে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং পরিচ্ছন্নতার ওপর অত্যন্ত জোরালো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোগব্যাধি ও তার প্রতিকার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহ–তাআলা রোগ দেন, রোগের প্রতিষেধকও নাজিল করেন। প্রতিটি রোগের চিকিৎসা রয়েছে।'
চিকিৎসা গ্রহণের তাগিদ দিয়ে প্রিয় নবীজি (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, 'হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো, কেননা মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি। তবে একটি রোগ আছে, যার কোনো প্রতিষেধক নেই; তা হলো বার্ধক্য।' পবিত্র কোরআন মাজিদের সুরা নাহলের ৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'আল্লাহ এমন কিছু সৃষ্টি করবেন, যা তোমরা জানো না।'
মানবদেহের যত্নের বিষয়ে প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, 'তোমার শরীরেরও হক বা পাওনা রয়েছে তোমার ওপর।' এই বাণীর মাধ্যমে শরীরের সুস্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি ইসলামি তাগিদ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, হজরত ফাতিমা (রা.)-এর জীবন থেকেও বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও শিক্ষণীয় বিষয়ের প্রতিফলন ঘটে।
এদিকে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বৃহত্তর নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সৌদি সরকার হজ গমনেচ্ছুদের জন্য টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে। এর ফলে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বর্তমান সময়ে আরও বেশি গুরুত্ব লাভ করেছে।








